আরাগচি বলেন, আশুরার ঘটনাবলি-সংক্রান্ত নথিপত্র গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে আধিপত্যবাদী ব্যবস্থা ও ঔপনিবেশিক শক্তির মোকাবিলায় মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ইরানের সভ্যতাগত প্রচেষ্টার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এসব নথিতে প্রতিফলিত ইরানি কূটনীতি কঠোর বা সংকীর্ণ স্বার্থনির্ভর নয়; বরং এটি মানবকেন্দ্রিক কূটনীতি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষা এবং আশুরার সংস্কৃতি বিকাশ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের সঙ্গে ইরানিদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় অঙ্গীকার ও কূটনৈতিক পরিচয়ের অংশ। পেহলভি শাসনামলের মতো কিছু শাসকের ধর্মবিরোধী নীতির মধ্যেও এই অঙ্গীকার বজায় ছিল।
এ বছরের মহররম ও আশুরা ইরানে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অন্যায় ও কাপুরুষোচিত আগ্রাসনের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও মুক্তি রক্ষায় ইরান বহু মানুষকে হারিয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেও ইরানের জনগণ তাদের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষায় দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়েছে।
আরাগচি বলেন, ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, কোনো জাতি যখন নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষায় আত্মত্যাগ, অধ্যবসায় ও প্রচেষ্টা পরিত্যাগ করে, তখন তারা শুধু ভূখণ্ডই হারায় না; বরং নিজেদের সামষ্টিক পরিচয়, জাতীয় সংকল্প এবং ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সক্ষমতাও হারানোর ঝুঁকিতে পড়ে।
তিনি বলেন, এই আদর্শিক ও কৌশলগত উপলব্ধি থেকেই সব ধরনের চাপের মধ্যেও ইরান প্রতিরোধের প্রতি তার অঙ্গীকারে অটল রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে।
ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, বর্তমানে ইরান অন্যায় ও অমানবিকতার ঝড়ের মধ্যেও দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের ইসলামী বিপ্লবের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে।
আরাগচি বলেন, অন্যায়ভাবে ঝরানো রক্তকে ভুলে যাওয়া বা উপেক্ষা করা হবে না। সেই রক্ত বিস্মৃত হবে না এবং এর পেছনে যাদের ষড়যন্ত্র রয়েছে তাদের ক্ষমাও করা হবে না। ন্যায়বিচারের সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করতে এই রক্ত প্রতিনিয়ত প্রেরণা জোগাবে।
সূত্র : আইআরএনএ
এস