রোববার (১১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় ধ্রুব রাঠি দাবি করেন, শনিবার সকালে সাদা পোশাকের কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে ঢুকে তাঁকে তুলে নিয়ে যান। এ সময় তাঁর মাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় ২২ থেকে ২৩ ঘণ্টা আটকে রাখার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে জার্মানি থেকে ভারতে এসেছিলেন ধ্রুব। শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগেই গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
ভিডিওবার্তায় ধ্রুব বলেন, শনিবার সকাল ৭টার দিকে তাঁর বাড়ির বাইরে কয়েকজনকে ঘোরাফেরা করতে দেখে তাঁর মা দরজা খোলেন। এরপর সাধারণ পোশাকের লোকজন তাঁর মাকে ধাক্কা দিয়ে ঘরে ঢোকেন এবং সরাসরি তাঁর শোবার ঘরে চলে যান। ঘুম থেকে ওঠার পর তাঁকে কথা বলার বা কিছু করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি জুতা পরার সময়টুকুও দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ধ্রুবের ভাষ্য, তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর মতে, এটি কোনো স্বাভাবিক আটক বা গ্রেপ্তারের ঘটনা নয়; বরং অপহরণের শামিল।
কোথায় তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ধ্রুব অভিযোগ করেন, তাঁকে এক থানা থেকে অন্য থানায় নেওয়া হয়েছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছে। এ সময় পরিবারের সদস্য কিংবা আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি; তাঁর ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
ছাড়া পাওয়ার পরও তাঁকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ধ্রুব। তাঁর দাবি, অন্তত ১৫ জন ব্যক্তি তাঁর ওপর নজর রাখছেন, যাতে তিনি বাড়ি থেকে বের হতে না পারেন। এ পরিস্থিতিকে তিনি কার্যত গৃহবন্দি থাকার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
এদিকে, ধ্রুব ভারতের নাগরিক কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে। এর জবাবে ভিডিওবার্তায় নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট দেখিয়ে তিনি বলেন, তিনি ভারতের নাগরিক এবং যেকোনো প্রতিবাদ ও আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে ধ্রুব বলেন, মানুষকে এত ভয় দেখানো উচিত নয়, যাতে একসময় সেই ভয়ই আর কাজ না করে। শনিবারের ঘটনাকে উত্তর কোরিয়ার পরিস্থিতির সঙ্গেও তুলনা করেন তিনি।
এ ছাড়া মোদিকে হিটলার ও মুসোলিনির পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন ধ্রুব। এক দিনের মধ্যে ধ্রুব ও সিজেপির নেতাদের মুক্তি দেওয়া না হলে অনশনে বসার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক। ধ্রুব তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
এস















