সাবেক স্বৈরাচার শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন বলে বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। তার এই ‘ফেরা’ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রশ্ন করেছিলেন এক সাংবাদিক।

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকে ভারতেই আছেন তিনি। তার বর্তমান অবস্থান দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লি।

কয়েকদিন আগে রয়টার্সকে তিনি বলেন, পলাতক অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দেশে এসে তিনি আত্মসমর্পণ করবেন। গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধে ইতিমধ্যে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

২৪-এ যে মন্তব্য পতন ডেকে আনে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার

চীন সফর সংক্ষিপ্ত করে ২০২৪ সালের ১১ জুলাই রাতে দেশে ফেরেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কোটা সংস্কার আন্দোলনে উত্তাল। ৩ দিন পর ১৪ জুলাই প্রকাশ পায় সরকারি চাকরিতে কোটা বহালের পক্ষে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়। সেদিন বিকেলে গণভবনে আয়োজন করা হয়েছিল শেখ হাসিনার চীন সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন।

সেখানে এটিএন নিউজের সাংবাদিক প্রভাষ আমিনের এক প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পরোক্ষভাবে ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলেন। তার এই মন্তব্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বারুদ জ্বলে ওঠে। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া অহিংস আন্দোলন রূপ নেয় এক সর্বাত্মক গণ-আন্দোলনে, যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে। সেদিন শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান হয় এবং স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পালিয়ে যান পাশের দেশ ভারতে।

সূত্র: এএনআই

এমএম