বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ প্রদেশের প্রিলুকি জেলায় একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হামলার সময় ভবনটির বাসিন্দারা ঘুমিয়ে ছিলেন। এতে শিশুসহ বহু মানুষ হতাহত হন।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনটির জানালার কাচ ভেঙে ছড়িয়ে পড়ে। পাঁচতলা ভবনটির একটি বড় অংশ ধসে গিয়ে আগুনে পোড়া কংক্রিট ও বাঁকাচোরা ধাতব কাঠামোর স্তূপে পরিণত হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, নিহত শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়স ছিল মাত্র এক বছর এবং আরেকজনের বয়স আট বছর। পরে ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় আরও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রিলুকির ওই আবাসিক ভবনে হামলায় মোট ২০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। আহতদের মধ্যে সাতজন শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
রুশ বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ ও শহরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তার ভাষায়, ইউক্রেনের জনগণ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার সন্ত্রাস ছড়ানোর একটি পরিকল্পিত কৌশল।
হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রিলুকির বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সি ওলেনা সায়ুন বলেন, বিস্ফোরণের সময় তিনি পরিবারের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। আচমকা বিস্ফোরণে ঘরের জানালার কাচ ভেঙে পড়ে। সন্তানকে শরীর দিয়ে আড়াল করতে গিয়ে তিনি ও তার স্বামী আহত হন।
ওলেনা জানান, হামলার পর তার সন্তান প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাথরুমে আশ্রয় নেন। এ সময় বিস্ফোরণের ধাক্কায় তাদের অ্যাপার্টমেন্টের বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রিলুকি এলাকায় হামলা শুরু হয়। এর এক দিন আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সম্ভাব্য বড় ধরনের রুশ হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
শীত মৌসুম সামনে রেখে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলার তীব্রতা বাড়ছে। ঘন ঘন বিমান হামলার সতর্ক সংকেতের কারণে অনেক বাসিন্দা রাত কাটাতে সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছেন। সঙ্গে নিচ্ছেন প্রয়োজনীয় সামগ্রী, কম্বল ও শোয়ার মাদুর।
কিয়েভের বাসিন্দা ও ব্যাংক কর্মকর্তা ইরিনা রিবালচেঙ্কো জানান, নিরাপত্তার জন্য তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে সাবওয়ে স্টেশনে চলে এসেছেন। তার মতে, হামলার আশঙ্কায় পুরো শহরজুড়েই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার দেশটির দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ, পোলতাভাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়া অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৩০টি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে।
জেলেনস্কি এ হামলাকে চলমান যুদ্ধের অন্যতম ভয়াবহ আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের বাহিনী কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে ইউক্রেনের আরও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন।
প্রিলুকির ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের কাছাকাছি বসবাসকারী ৩১ বছর বয়সি অনলাইন মার্কেটিংকর্মী ইউলিয়া শামরাই প্রশ্ন তুলেছেন, আবাসিক এলাকায় এমন হামলার মাধ্যমে রাশিয়া কী ধরনের সামরিক লক্ষ্য অর্জন করতে চায়, তা তার বোধগম্য নয়।
সূত্র: এএফপি
এনএইচ











