বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনা করা হবে। এর মধ্যে ভারতীয় বাজারে পাটজাত পণ্যের ওপর আরোপিত অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার, স্থলবন্দর ব্যবস্থাপনার জটিলতা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছে। মঙ্গলবার তারা রওনা হন।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের একজন কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যসংক্রান্ত বেশির ভাগ দাবিই তুলে ধরা হবে। তবে ভারতীয় পক্ষ থেকে কোন কোন বিষয় আলোচনায় আনা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের এই বৈঠক মূলত আলোচনাভিত্তিক। ফলে এখানে কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভিত্তি তৈরি হবে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে। কারণ ভারত থেকে বাংলাদেশ যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করে, তার তুলনায় দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি অনেক কম।
তবে এবার আলোচ্যসূচিতে বহুল আলোচিত দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা সিইপিএ রাখা হয়নি বলে জানা গেছে।
চীনের পর ভারত বাংলাদেশের পণ্য আমদানির অন্যতম প্রধান উৎস। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতে প্রায় ১৭৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে একই সময়ে ভারত থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে প্রায় ১ হাজার ৯৬ কোটি ডলারের পণ্য।
বাংলাদেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতে ভারতীয় পণ্যের ওপর উল্লেখযোগ্য নির্ভরতা রয়েছে। বিশেষ করে কারখানার কাঁচামাল, কাপড়, তুলাসহ বিভিন্ন পণ্য ভারত থেকে আমদানি করেন দেশের ব্যবসায়ীরা।
বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং রপ্তানির সুযোগ বাড়াতে এবারের বৈঠকে বাংলাদেশ কী ধরনের অগ্রগতি করতে পারে, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।
এনএইচ











