সৌদি গণমাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আকরিকে ভারী বিরল খনিজ পদার্থের উচ্চ ঘনত্ব রয়েছে। পাশাপাশি এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরেনিয়ামের উপস্থিতিও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সৌদি আরব এখন তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে। সেই লক্ষ্যে দেশটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। এই আবিষ্কারকে সেই প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় দেশে ইউরেনিয়াম উত্তোলন ও বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে সৌদি আরবের এই ঘোষণা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দেশটির সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। সৌদি মাটিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকায় দেশটি ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবেও বিবেচিত। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের তৎপরতায় লোহিত সাগরে সৌদি আরবের সামুদ্রিক যোগাযোগও চাপে পড়েছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উদ্বেগও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের পেছনে একটি বড় কারণ। তারা দাবি করছে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির মাধ্যমে অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে। তবে তেহরান সবসময় বলে আসছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে।

মদিনায় ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিক আবিষ্কারের এই দাবি এমন সময়ে এল যখন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা জোরদার হয়েছে। গত জুলাইয়ে দুই দেশ একটি দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তির পাশাপাশি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি তৈরির একটি চুক্তিও সই করেছে। এই চুক্তির আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি তৈরিতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে সৌদি আরব সরাসরি মার্কিন তদারকি ছাড়াই নিজের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাবে।

তবে মদিনায় পাওয়া আকরিকে ঠিক কতটুকু ইউরেনিয়াম আছে এবং বাণিজ্যিকভাবে কতটুকু উত্তোলন করা সম্ভব, তা আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান ও মূল্যায়নের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এনএইচ