বর্তমানে শিক্ষার্থীরা তাদের নির্ধারিত পড়াশোনা শেষ হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার সুযোগ পান। তবে নতুন নিয়মে সেই ব্যবস্থা আর থাকছে না। শিক্ষার্থীর পড়াশোনার বিষয় এবং নির্ধারিত সময়ের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদ দেওয়া হবে।

এই মেয়াদ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ফর্ম আই-২০ বা ‘সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি ফর ননইমিগ্র্যান্ট স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস’-এ উল্লেখ করা শিক্ষাক্রমের সময়কাল বিবেচনায় নেওয়া হবে। তবে কোনো শিক্ষার্থীকেই চার বছরের বেশি সময়ের জন্য অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে না।

নতুন নিয়মে পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সময়ও কমানো হয়েছে। এতদিন শিক্ষার্থীরা কোর্স বা প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর দেশ ছাড়তে ৬০ দিন সময় পেতেন। নতুন নিয়মে সেই সময় কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে।

অর্থাৎ, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে অথবা আইনসম্মত কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের অভিবাসন স্ট্যাটাস পরিবর্তন করতে হবে। তবে ক্লাস শুরুর সর্বোচ্চ ৩০ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বর্তমান নিয়মটি বহাল থাকবে।

নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে অবস্থানের মেয়াদ আরও সীমিত রাখা হয়েছে। ইংরেজি ভাষা শেখার উদ্দেশ্যে যাওয়া শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ২৪ মাস যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, পাবলিক হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে স্কুলের ছুটির সময়সহ মোট অবস্থানের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১২ মাস।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পড়াশোনা শেষ করতে না পারলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ফরম পূরণ, নির্ধারিত ফি পরিশোধ এবং কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে।

এ ছাড়া যেসব শিক্ষার্থীর ভিসার মেয়াদ এখনো কার্যকর রয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গিয়ে আবার দেশে প্রবেশের মাধ্যমে নতুন করে অবস্থানের মেয়াদ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

নতুন এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিজেদের শিক্ষাক্রমের সময়সীমা, ভিসার শর্ত এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়ে আগের তুলনায় আরও সতর্ক থাকতে হবে।

সূত্র: এনডিটিভি

এনএইচ