সৌদি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, রোববার বিমানবন্দরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে যাত্রীদের একটি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই ঘটনায় এক পাকিস্তানি বাসিন্দার নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে শনিবার একই বিমানবন্দরে হুথিদের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হন। শনিবারের নিহতদের মধ্যে দুই জন বাংলাদেশি, চার জন সৌদি নাগরিকসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, মিসর ও ভারতের নাগরিক রয়েছেন।
হুথি বাহিনীর সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এই জোড়া হামলার দায় স্বীকার করে এক বিবৃতিতে সতর্ক করেছেন যে, মক্কা ও মদিনা ব্যতীত সৌদি আরবের সব বিমানবন্দর ও আকাশসীমা তাদের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। একই সাথে তারা দাম্মাম বিমানবন্দর ও একাধিক তেল স্থাপনাতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দরে সম্প্রতি সৌদি জোটের পরিচালিত বিমান হামলার জবাবেই এই হামলা জোরদার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বেসামরিক স্থাপনায় পরিচালিত এই হামলাকে সরাসরি 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে বর্ণনা করে দ্রুত ও কড়া জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে হুথি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মধ্যে স্বাক্ষরিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি গত জুলাই মাসে ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে সহিংসতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। হুথিরা বর্তমানে ইয়েমেনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ভূখণ্ড এবং ৮০ শতাংশ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করছে। সৌদি সরকারের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে তাদের দক্ষিণ সীমান্তে একটি ইরান সমর্থিত প্রক্সি বা পুতুল রাষ্ট্রের বিস্তার ঘটার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি প্রশাসনের মধ্যে সংলাপের পথ সুগম করতে মধ্যস্থতা প্রস্তুত তার দেশ।
এমএম















