বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেওয়া এক বার্তায় খামেনি ইরানিদের বিভেদ ও মতবিরোধ পরিহার করে জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহেরের বরাতে আনাদোলু জানায়, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এই বার্তায় তিনি জনগণ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

খামেনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষ সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক—উভয় ধরনের সমন্বিত বা ‘হাইব্রিড’ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যে বলেন, সামরিক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন শত্রুরা ইরানি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে তাদের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, ইরানি জনগণ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঐক্য অটুট থাকলে শত্রুপক্ষের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। জাতীয় সংহতিই বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় শক্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে চলতি সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর এটিকে দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘর্ষ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর জেরে ইরানও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরেও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর স্থায়ী সমঝোতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে। তাঁর দাবি, সম্ভাব্য ওই চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হ্রাসের পথ তৈরি হতে পারে।

এস