ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সরকারি দপ্তর এলিসি প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বুধবার (৮ অক্টোবর) রয়টার্সকে জানান, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দূর করে সংসদীয় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন ম্যাক্রোঁ।
তিনি বলেন, অধিকাংশ আইনপ্রণেতা সংসদ ভেঙে দেওয়ার বিপক্ষে। তারা স্থিতিশীলতা চান। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ নতুন বাজেট অনুমোদনের কথা রয়েছে, তাই সরকারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি।
এর আগে গত ৬ অক্টোবর ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান লেকোর্নো পদত্যাগ করেন। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ এই নেতা বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীনভাবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের পর তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন।
ফ্রান্সে সম্প্রতি বাজেট কাটছাঁট নিয়ে জনগণ ও বিরোধী দলগুলোর ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। ঋণভার সামলাতে গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে সরকার কল্যাণমূলক ও জনস্বার্থ সম্পর্কিত খাতে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এতে জনরোষ ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে।
এ পরিস্থিতিতে পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বায়রো আস্থাভোটে হেরে পদত্যাগ করেন। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ম্যাক্রোঁ নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে লেকোর্নোকে নিয়োগ দেন। তবে তার নেতৃত্বেও রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটেনি। বামপন্থি দল ও ট্রেড ইউনিয়নগুলো একের পর এক আন্দোলনের ডাক দিতে থাকায় দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২৭ দিনের মাথায় পদত্যাগ করেন লেকোর্নো।
পদত্যাগের আগের দিন ফ্রান্স টু টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সংকট এখনও কাটানো সম্ভব। আমি প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দিয়েছি যত দ্রুত সম্ভব নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে।
তার মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এলিসি প্রাসাদ থেকে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ঘোষণা আসে।
সূত্র: রয়টার্স
এনএইচ