ইমাম খামেনির রচিত আত্মজীবনী ‘সেল নম্বর ১৪’ বইয়ে খামেনি নিজের জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।
সেখানে স্ত্রী মনসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহর বিষয়ে খামেনি লিখেছেন, ‘আমার জীবনে আমার স্ত্রীর সক্রিয় ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়ে আমার মনে হয়, তাঁর ব্যক্তিত্ব ও মহৎ গুণাবলির ওপর সংক্ষেপে আলোকপাত করা প্রয়োজন। আমার স্ত্রী দৃঢ় ও উচ্চ মনোবলের অধিকারী। সাভাকের দোসরদের দ্বারা আমাদের বাড়িতে বারবার হামলা এবং তার চোখের সামনেই আমার বারবার গ্রেপ্তার হওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনো ভয়, দুর্বলতা বা মানসিক ভাঙনের কোনো লক্ষণ প্রকাশ করেননি। তার এই গুণাবলি আরো সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছিল সেই ঘটনাতেও, যখন গভীর রাতে আমাদের বাড়িতে হানা দেওয়া হয় এবং তার উপস্থিতিতেই আমি সাভাক এজেন্টদের হাতে প্রহৃত হই—যার উল্লেখ আমি পরে করব।
আমার কারাবাসের সময় তিনি আমাকে দেখতে আসতেন এবং প্রতিবারই তার উচ্চ মনোবল ও দৃঢ় চরিত্র প্রকাশ পেত। তার সাক্ষাৎ আমাকে আত্মবিশ্বাস ও প্রশান্তিতে ভরিয়ে দিত। তিনি কখনোই আমাকে কোনো দুঃসংবাদ জানাতেন না—যেমন আমাদের সন্তানদের কারও অসুস্থতা কিংবা পরিবার বা বন্ধুদের কোনো উদ্বেগজনক পরিস্থিতি।
তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীলা ছিলেন; বিপ্লবের আগে কঠিন জীবনযাপন সহ্য করেছেন এবং বিপ্লবের পরেও সরল জীবনযাপনের ওপর অনড় থেকেছেন। আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ যে, আমাদের ঘর সর্বদা বিলাসিতা ও অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র থেকে মুক্ত ছিল—এমনকি সেসব জিনিস থেকেও, যা সাধারণ ঘরেও দেখা যায়। যদিও আমি নিজেই বৈবাহিক জীবনের শুরু থেকেই এমন সংযম আরোপ করেছিলাম এবং আমার স্ত্রীকে সেই জীবনধারার দিকে পরিচালিত করেছিলাম, তবুও আমাদের এই সাদাসিধে জীবনধারা রক্ষায় তার অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সত্যি বলতে, এই ক্ষেত্রে তিনি আমাকে অনেক দূর ছাড়িয়ে গেছেন।
এই মহীয়সী নারীর সংযমী জীবনের অনেক স্মৃতি আজও আমার মনে প্রতিধ্বনিত হয়। তিনি কখনো আমাকে নিজের জন্য পোশাক কিনে দিতে বলেননি; কেবল সন্তানদের প্রয়োজনীয় পোশাকের কথা মনে করিয়ে দিতেন এবং পরে নিজেই তা কিনে নিতেন। তিনি কখনো গয়না কেনেননি। বরং তার বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনের দেওয়া সব মূল্যবান অলঙ্কার বিক্রি করে সেই অর্থ দান-খয়রাতে ব্যয় করেছেন। বর্তমানে তার কাছে কোনো অলঙ্কারই নেই—এমনকি একটি সাধারণ আংটিও নয়।’
কৃতজ্ঞতা: মহানগর পাবলিকেশন
এমএম