বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ০১ ডলারে ওঠে। পরে কিছুটা কমে ৯৯ দশমিক ৯৩ ডলারে লেনদেন হয়। এর আগে গত জুলাইয়ে সর্বশেষ ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) নভেম্বর সরবরাহের ফিউচার মূল্য ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৫৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় অঞ্চলটি থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের হামলার চেষ্টার জবাবে পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংসের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হামলার চেষ্টা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে তাদের যুদ্ধজাহাজটি। এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
১২০ ডলারে উঠতে পারে তেল
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হলে এবং তেলবাহী জাহাজে হামলা বাড়লে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের ওপরে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গোল্ডম্যান স্যাকসের বৈশ্বিক পণ্যবাজার গবেষণার সহপ্রধান ড্যান স্ট্রুইভেন।
সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে তেলের দাম ১২০ ডলারে পৌঁছানো সম্ভব।
তবে গোল্ডম্যান স্যাকসের মূল পূর্বাভাস তুলনামূলক আশাবাদী। প্রতিষ্ঠানটির মতে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিকল্প নৌপথ এবং অতিরিক্ত পাইপলাইন সক্ষমতা ব্যবহার করে সরবরাহের ঘাটতি কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে আগামী কয়েক মাসে তেল রপ্তানি স্বাভাবিক না হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে বলে মনে করছেন ড্যান স্ট্রুইভেন। জাহাজে হামলার মাত্রা ও বিস্তার বাড়লে পারস্য উপসাগর থেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য তেল সরবরাহ কমে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতির চাপ
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় সরাসরি বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে শিল্প উৎপাদন ও পণ্য পরিবহন খরচেও। ফলে বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতির অবনতি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও পণ্যের দামের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: সিএনবিসি
এস