ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর ‘স্টেলথ মোবিলাইজেশন’ বা গোপন পদ্ধতিতে সেনা নিয়োগের প্রস্তুতি থাকতে পারে। তবে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন করে ব্যাপক সেনা সমাবেশের কোনো ঘোষণা দেয়নি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এর আগে দাবি করেছিলেন, নির্বাচনের পর রাশিয়া আরও তিন লাখ সেনা নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ২০২৬ ও ২০২৭ সালে আরও বড় পরিসরে সেনা নিয়োগের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে। তবে পশ্চিমা কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিপুলসংখ্যক নতুন সেনাকে দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর মতো সামরিক সরঞ্জাম রাশিয়ার হাতে আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ইউরোপে ‘হাইব্রিড’ হামলার শঙ্কা
ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ইউরোপীয় নেতারা। এর মধ্যে সাইবার হামলা, ড্রোন, নাশকতা, তথ্যযুদ্ধ ও অন্যান্য গোপন তৎপরতা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ সম্প্রতি ইউরোপ ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হাইব্রিড হুমকি বাড়ার কথা উল্লেখ করেছেন। সম্ভাব্য নাশকতা থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে সুরক্ষিত রাখতে পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা নিয়ে পোল্যান্ডের সতর্কতা
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সতর্ক করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনকে সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলার ঝুঁকি রয়েছে। এসব হামলাকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ইউরোপীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করছেন, এ ধরনের তৎপরতার মাধ্যমে ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া ও জোটের সংহতি পরীক্ষা করা হতে পারে।
ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ
এদিকে ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানোর সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তবে ইউরোপ থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রকাশিত খবর যুক্তরাষ্ট্র অস্বীকার করেছে।
পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার পাশাপাশি সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার পথ বেছে নিতে পারে মস্কো। তবে রাশিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
এস





