স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরাঘচি এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, নতুন প্রস্তাবে যে বিষয়গুলো রাখা হয়েছে, সেগুলো জুনে করা ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকেই উল্লেখ ছিল।

ইরানের এই প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যুও রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালায়। একই সময় দেশটি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়।

এদিকে আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং এর ফলে সৃষ্ট অস্থিরতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপরও চাপ বাড়িয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের উপায় বের করার ক্ষেত্রেও তার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে আরাঘচি বলেন, প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করা হলে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া সম্ভব। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তি হলে সাত দিনের মধ্যেই প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটি তাদের বিষয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠিক কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, তা স্পষ্ট করেননি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মার্কিন পক্ষকে দেওয়া শর্তগুলো জুনের ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকেই রয়েছে। এতে নতুন কোনো শর্ত যোগ করা হয়নি।

গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ওই সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছিল, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হবে না। একই সঙ্গে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মধ্যে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের কথা ছিল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টিও এতে ছিল।

অন্যদিকে, সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল ইরান। পাশাপাশি প্রণালিতে ভবিষ্যতে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনার কথাও উল্লেখ ছিল।

তবে দুই পক্ষের মধ্যে আবার হামলা ও পাল্টা হামলা শুরু হলে কয়েক দিনের মধ্যেই ওই সমঝোতা কার্যত ভেস্তে যায়।

এরপর হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী কয়েকটি জাহাজে হামলা চালায় ইরান। দেশটির দাবি ছিল, অনুমোদন না থাকা রুট দিয়ে চলাচল করায় এসব জাহাজকে লক্ষ্য করা হয়েছিল।

এর প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দেশটি ইরানের ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করে। এতে ইরানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ে।

সূত্র: বিবিসি

এনএইচ