প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার মধ্যরাতের পর থেকে এ হামলা শুরু হয়। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো বলেন, ‘শত্রুপক্ষ আবারও ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে।’
রাজধানীর সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, হামলায় আবাসিক ভবন ও গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার সময় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন মিত্র দেশগুলোর কাছে আরও মার্কিন-নির্মিত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কিয়েভ ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের রসদ সরবরাহকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এসব কেন্দ্র বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের মজুত ও সরবরাহের পাশাপাশি চালকবিহীন আকাশযান উৎপাদন ও বিতরণের সঙ্গে জড়িত ছিল।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, কৃষ্ণ সাগর-তীরবর্তী ওডেসা বন্দরের কাছে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনকারী তিনটি পণ্যবাহী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বলেছেন, শহরের কেন্দ্রস্থলে হামলার কারণে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। টেলিগ্রামে তিনি বলেন, আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসন বলছে, শত্রুপক্ষ আবারও ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা চালাচ্ছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী হামলার সময় কোনো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানায়নি। টেলিগ্রামে এক পোস্টে বলা হয়েছে, রাশিয়া ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় রাশিয়া ১১৫টি ড্রোন উৎক্ষেপণ করেছিল। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেগুলোর মধ্যে ৯৮টি প্রতিহত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া কিয়েভের ওপর হামলা জোরদার করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ রাশিয়ার বিভিন্ন অবকাঠামোর ওপর হামলা বাড়িয়েছে।
রাশিয়ার তুলা অঞ্চলের গভর্নর দিমিত্রি মিলিয়েভ বলেন, গত রাতে ওই অঞ্চলে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামে ড্রোন বিধ্বস্ত হয়ে আগুন লেগেছে।
টেলিগ্রামে এক পোস্টে তিনি বলেন, এ ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। তবে এতে কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গুদামটি খালি করে দেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেন ওয়াইল্ডবেরিজ পরিচালিত গুদামসহ বিভিন্ন গুদামে বারবার হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে মস্কো অঞ্চলের একটি গুদামে সর্বশেষ হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন।
এর আগের দিন রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি ব্যস্ত সৈকতে ড্রোন হামলায় সাতজন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষই ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সূত্র : বিবিসি
এস