রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেহরাদুন ও হালদাওয়ানিতেও প্রশাসনের অভিযান সম্প্রসারিত হয়েছে।

রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সচিব পরাগ মধুকর ধাকাতে বলেন, নির্ধারিত স্বীকৃতি ও শিক্ষার মানদণ্ড পূরণ না করা মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি নিয়ম ও স্বীকৃতির শর্ত পূরণ ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ অভিযানে দেহরাদুনে তিনটি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আজাদ কলোনির মাদ্রাসা জামিয়া-তুস-সালাম আল-ইসলামিয়াকে সিলগালা করা হয়েছে। একই এলাকার মাদ্রাসা দার-ই-আরকাম এবং মাজরার মাদ্রাসা দারুল উলুম রহিমিয়ার কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে কার্যক্রম বন্ধের কথা জানিয়েছে।

হালদাওয়ানিতে সিলগালা করা হয়েছে দুটি মাদ্রাসা। এগুলো হলো গৌজা জালি নর্থের শনি বাজার রোডের মাদ্রাসা জামিয়া নুরিয়া বারকাতে আমিনা এবং বানভুলপুরার ইন্দিরা নগরের একটি অননুমোদিত মাদ্রাসা। প্রয়োজনীয় স্বীকৃতির নথি দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

এর আগে গত জুলাইয়ে উত্তরাখণ্ড সরকার রাজ্যের মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্ত করে নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন করে। নতুন ব্যবস্থায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও স্বীকৃতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুসলিমদের পাশাপাশি খ্রিস্টান, শিখ, পারসি, জৈন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এর আওতায় রয়েছে।

সরকারের নতুন কাঠামোয় আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত নিয়ম ও স্বীকৃতি ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বলেছেন, শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নির্ধারিত আইন ও নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কাঠামো চালুর আগে উত্তরাখণ্ডে মাদ্রাসা বোর্ডের স্বীকৃত ৪৫২টি মাদ্রাসা ছিল। এর আগে স্বীকৃতির জন্য আবেদন না করা ২০০টির বেশি মাদ্রাসার বিরুদ্ধেও অভিযান চালিয়ে সেগুলো সিলগালা করা হয়েছিল।

এদিকে সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষার মান নির্ধারণের বিষয়ে ২০২৪ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের একটি মামলায় আদালত বলেছিল, সংখ্যালঘুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার অধিকার থাকলেও শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এস