অনুষ্ঠানটিতে প্রায় ৫ হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে কয়েকটি আন্তঃধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠন এরই মধ্যে অনুষ্ঠানটির সমালোচনা করেছে।
আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী প্রচারের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন মোহন ভগবত। কর্মসূচির আওতায় তিনি কানাডা ও যুক্তরাজ্যেও সফর করবেন।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জানতে চান, ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি বাতিল করা উচিত কি না। জবাবে মামদানি বলেন, ‘আমি এই সমাবেশকে সমর্থন করি না। তবে এটি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান হওয়ায় তা বাতিল করার এখতিয়ার নগর প্রশাসনের আছে কি না, তা আমি জানি না।’
নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে নিজেকে প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান মেয়র হিসেবে উল্লেখ করে মামদানি বলেন, তার মায়ের পরিবারের সদস্যরা এখনো ভারতে বসবাস করছেন।
তিনি বলেন, পরিবার থেকে তিনি যে ভারতের ধারণা নিয়ে বড় হয়েছেন, সেটি ছিল একটি ‘বহুত্ববাদী সমাজ’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রের’ ধারণা। সেখানে ভারতের প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকার ও অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পেত।
মামদানি বলেন, এর বিপরীতে ‘বর্জনমূলক দৃষ্টিভঙ্গির’ ওপর ভিত্তি করে একটি আন্দোলনের উত্থান দেখতে পাওয়া তার জন্য ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’। ভারতীয়-আমেরিকান নাগরিক হিসেবে এবং এমন একটি শহরের মেয়র হিসেবে, যেখানে বর্ণ, ধর্ম, বিশ্বাস বা দেশের পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়—তিনি এই দৃষ্টিভঙ্গির ‘তীব্র বিরোধী’ বলেও জানান।
হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস, ইন্ডিয়ান আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিল এবং ইন্টারফেইথ সেন্টার অব নিউইয়র্কসহ কয়েকটি সংগঠন ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ভগবতের উপস্থিতির বিরোধিতা করেছে। তারা অনুষ্ঠানটি বাতিলের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
পাবলিক পলিসি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এএইচইএডি ফোরাম ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’ শিরোনামে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সংগঠনটি বলেছে, ২৯ আগস্টের এই আয়োজনের মূল বার্তা হলো—‘পুরো বিশ্ব একটি পরিবার’। কৃত্রিম বিভাজন ও পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে ঐক্যের দিকে তাকানোর আহ্বানও জানিয়েছে তারা।
সব মিলিয়ে, আয়োজকদের সমর্থন পেলেও ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানটি নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর বিরোধিতার মুখে পড়েছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি স্পষ্টভাবে এর বিরোধিতা করলেও নগর প্রশাসন অনুষ্ঠানটি বন্ধ করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এমএম