বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে সংঘাত অব্যাহত থাকায় পাকিস্তান সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—এমন কোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।

তাহির বলেন, শেষ পর্যন্ত সব সংঘাত ও বিরোধ আলোচনার টেবিলেই সমাধান হয়। উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বলেও জানান তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের এই বক্তব্য এলো, যখন হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্ট ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)-এ সই করেন। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য দুই পক্ষকে ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনা চালানোর কথা ছিল।

পাকিস্তানের মুখপাত্র বলেন, “ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক শান্তি, পারস্পরিক সম্মান ও যৌথ সমৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়ার একটি কার্যকর কাঠামো হিসেবে রয়ে গেছে।”

তবে তিনি স্বীকার করেন, সমঝোতাটি বাস্তবায়নে বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তারপরও পাকিস্তান সহিংসতা বন্ধ এবং ২২ জুনের পাকিস্তান-কাতার যৌথ বিবৃতি ও ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের আলোকে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করতে সব পক্ষকে উৎসাহিত করে যাবে।

অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্বাক্ষরের পর পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচক দল বৈঠক করেছিল।

তাহির আন্দ্রাবি বলেন, “আমরা আশা করি, সব পক্ষ তাদের অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতির পথেই অটল থাকবে।”

পাকিস্তান দ্রুত হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রকাশ করে এবং সমুদ্রপথে নিরাপদ, সুরক্ষিত ও অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেয়।

এদিকে ইরান দাবি করছে, হরমুজ প্রণালি এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

এমএম