১৯৯১ সালে সিংহাসনে বসার পর ৩৫ বছর নরওয়ের রাজা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হ্যারাল্ড। সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের দেশ নরওয়েতে রাজার ক্ষমতা মূলত আনুষ্ঠানিক। তবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং সংকটের সময় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ভূমিকার জন্য তিনি ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শিশু হ্যারাল্ড পরিবারসহ নরওয়ে ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে ছিলেন। পরে দেশে ফিরে তিনি নৌবাহিনীতে প্রশিক্ষণ নেন এবং অলিম্পিক পর্যায়ে নৌক্রীড়ায় অংশ নেন। খেলাধুলা ও বিশেষ করে নৌযাত্রার প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল।

২০১১ সালে নরওয়েতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর হ্যারাল্ড তার বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন। সহনশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও আধুনিক মূল্যবোধের প্রতি তার অবস্থানের জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন।

জীবনের শেষ দিকে তিনি বেশ কয়েকবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ১৭ আগস্ট তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি রক্তে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে আক্রান্ত হন। এর আগে ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় ছুটিতে থাকাকালে সংক্রমণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি এবং পরে তার পেসমেকার স্থাপন করা হয়।

হ্যারাল্ডের মৃত্যুর পর তার ছেলে ক্রাউন প্রিন্স হাকন নরওয়ের সিংহাসনে বসেছেন। ৫৩ বছর বয়সী হাকন এখন রাজা হাকন অষ্টম নামে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

সূত্র: রয়টার্স, এপি নিউজ, সিএনএন ও বিবিসি

এস