রোববার বিক্ষোভকারীরা এমন একটি আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন, যার মাধ্যমে পরিবারভিত্তিক লাইসেন্স ফি তুলে দিয়ে তার পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে গণমাধ্যমকে (রেডিও ও টেলিভিশন) অর্থায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
শনিবার গভীর রাতে এক বিরল ভোটাভুটিতে বিলটি দ্রুত পাসের প্রক্রিয়া অনুমোদন করে দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ। ক্ষমতাসীন জোটের আইনপ্রণেতারা দ্রুততার সঙ্গে বিষয়টি উত্থাপন করায় বিরোধী দলগুলোর বিতর্কে অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বাবিশের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট বিলটি উত্থাপন করে। জোটটিতে দুটি কট্টর ডানপন্থি দলও রয়েছে। তবে আইনটি কার্যকর করতে হলে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের অনুমোদন পেতে হবে।
বিরোধী দলগুলো জানিয়েছে, আইনটি পাস হলে তারা সাংবিধানিক আদালতে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করবে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে সরকারি গণমাধ্যমের অর্থায়ন প্রায় ১৫ শতাংশ কমে যেতে পারে। আগামী বছর থেকেই এই কাটছাঁট কার্যকর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রাগের ওল্ড টাউন স্কয়ারে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ‘আমরা আর সহ্য করব না’ এবং ‘এটি কোনোভাবেই পাস হতে দেওয়া যাবে না’ বলে স্লোগান দেন।
বাবিশের দাবি, এই পরিকল্পনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত নয়; বরং অর্থায়নব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ।
তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে ক্ষমতাসীন জোট সরকারি গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাবে। তারা হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ও স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর মতো জনতুষ্টিবাদী নেতাদের সরকারের পদক্ষেপের সঙ্গে এই উদ্যোগের তুলনা করছেন।
এদিকে, সরকারি গণমাধ্যমের কর্মীরা আগামী ৩ নভেম্বর ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। শ্রমিক ইউনিয়ন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, গির্জা, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংস্থা এবং অন্যান্য সংগঠন তাদের এ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
এ ছাড়া আগামী ১৫ নভেম্বর প্রাগের লেতনা পার্কে আরেকটি সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ১৯৮৯ সালের কমিউনিস্টবিরোধী ‘ভেলভেট বিপ্লব’-এর বার্ষিকীর দুই দিন আগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ওই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশটিতে চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা সর্বাত্মক কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটে।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএম











