প্রায় আট মাস ধরে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতি বর্তমানে অচলাবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

শনিবার সকালে ফ্লোরিডায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। এ সময় তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে হামলা চালাবে কি না।

জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা কি সত্যিই মনে করেন, আমি আপনাদের সেটা বলে দেব?’ এক সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করতেই হবে বলে মন্তব্য করলে ট্রাম্প প্রশ্নটিকে ‘বোকামিপূর্ণ’ আখ্যা দেন। তবে ইরানে হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো আগামীকালই হামলা চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে। আবার চমৎকার, বড় ও সুন্দর একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। তারা চুক্তি করতে চায়। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা চুক্তির শর্ত মেনে চলবে কি না।’

ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, সে কারণেই দেশটিতে হামলা চালানো হয়েছিল বলে আবারও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এর আগে শুক্রবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের আগের অভিযানের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আরেকটি ছোট্ট এপিক ফিউরি অভিযান চালাতে পারি।’

এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে ইরানে হামলা চালানো হবে না। তবে শুক্রবার তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাকও নতুন হামলার সম্ভাবনার কথা বলেন। একটি পডকাস্টে তিনি বলেন, ‘এই সপ্তাহান্তে হামলা হতে পারে কি না? অবশ্যই হতে পারে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং দেশটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।

এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায় তেহরান। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।

গত ১৭ জুন ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধের অবসানে ১৪ দফার একটি চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিতে লেবাননসহ বিভিন্ন স্থানে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর অঙ্গীকার করা হয়েছিল।

তবে ৮ জুলাই ট্রাম্প চুক্তিটিকে ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করেন। এর এক সপ্তাহ পর তেহরানও সমঝোতা স্মারক স্থগিত করে। ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে সব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তোলে ইরান।

এরপর থেকে ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তিনি তাড়াহুড়ো করছেন না। অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের সরকার উৎখাতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

সূত্র: এনডিটিভি

এস