এপির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইরান ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর দাবি করা ১১৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার শুরুতে ইরান মার্কিন ঘাঁটির আগাম সতর্কতাব্যবস্থা, রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষাসংশ্লিষ্ট সরঞ্জামকে লক্ষ্যবস্তু করে। এসব ব্যবস্থা অকার্যকর করার পর বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, গুদাম, সেনাদের আবাসন ও অন্যান্য স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।

কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অন্তত ৩০ বার হামলা হয়েছে। এতে অন্তত ১৫টি বিমান রাখার হ্যাঙ্গারসহ একাধিক গুদাম ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একই দেশের ক্যাম্প বুয়েরিং ঘাঁটিতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে সেনাদের জিমনেসিয়াম, দোকান, খাবারঘর ও যানবাহন রাখার স্থাপনা হামলার শিকার হয়েছে।

এ ছাড়া বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলায় মার্কিন ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমানসহ একাধিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এপির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এসব হামলায় মার্কিন বাহিনীর আগাম সতর্কতা ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বেশ কিছু বিমান, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও যোগাযোগ সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন আঞ্চলিক কর্মকর্তারা।

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের বক্তব্য, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সেনা ও সামরিক ঘাঁটিগুলো সুরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা বজায় আছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার স্থায়ী সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। র‍্যান্ড করপোরেশনের বিশ্লেষক রাফায়েল কোহেনের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধে এ ধরনের হামলা মোকাবিলা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবার সংঘাত শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো আরও বড় ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ওই অঞ্চলে আগের মতো সামরিক উপস্থিতি পুনর্গঠন করা হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এস