বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন গালিবাফ।
তিনি জানান, ইরানের শর্তগুলো মধ্যস্থতাকারীদের কাছে বারবার ও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে এসব দাবি উপেক্ষা করে আলোচনায় অগ্রগতি আশা করা যায় না।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও যুদ্ধ বন্ধে ইরানের শর্ত
ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দেশটির তেল রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং আঞ্চলিক সব ফ্রন্টে শত্রুতা বন্ধ করা। পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিও রয়েছে।
তেহরানের বক্তব্য, এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা এগিয়ে নেওয়া কঠিন। শুধু আলোচনার প্রস্তাব কিংবা ভবিষ্যতে ছাড় দেওয়ার আশ্বাস যথেষ্ট নয়; যুক্তরাষ্ট্রকে বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে হবে।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটন আলোচনার শুরুতেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার চাইছে। বিশেষ করে দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করা এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়ে কার্যকর সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে আলোচনায় কোন বিষয়টি আগে গুরুত্ব পাবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর অংশ হিসেবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাইকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
চিঠির উদ্দেশ্য নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ হিসেবে চিঠিটি পাঠানো হয়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরানে চিকিৎসাসামগ্রী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছানোর বিষয়টি ছিল ওই যোগাযোগের মূল উদ্দেশ্য। এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তখনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
মধ্যস্থতায় কাতারসহ আঞ্চলিক দেশগুলো
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় কাতারসহ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি কাতারের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধে একটি খসড়া প্রস্তাব ইরানের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রস্তাবটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এতে গ্রহণযোগ্য সমাধানের ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা নতুন করে তেহরানে ফিরে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। তাঁদের এ উদ্যোগের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা এগিয়ে নেওয়া।
তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নৌ অবরোধ নিয়ে দুই পক্ষের মতবিরোধ এখনো আলোচনার বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা
কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হওয়ার লক্ষণ স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে অনিচ্ছুক তেহরানও কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।
দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল এবং ইরানের তেল রপ্তানি নিয়ে অস্থিরতা বাড়তে পারে। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, ডন
এস
















