ভোটপরবর্তী সহিংসতা, বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুর, হকার উচ্ছেদসহ একাধিক অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন- চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মালা রায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, অশোক দেব, অখিল গিরি, ইন্দ্রনীল সেন, ডেরেক ও'ব্রায়েন, কৃষ্ণা চক্রবর্তী, ফিরহাদ হাকিম, দোলা সেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূলের একাধিক নেতা ও কর্মীরা।

তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে অভিযোগ করে ধর্নামঞ্চে মমতা বলেন, ‘আমাদের সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলরদের ভয় দেখানো হচ্ছে। তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি থেকে বেরোতে দিচ্ছে না, ভয় দেখিয়ে রেখেছে। কিন্তু আপনারা ভয় পাবেন না।’

তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে আটকাতে পারবে না। পথে নেমে লড়াই করব, আর ভবিষ্যতে লড়াই চালিয়ে যাব। সংবিধানের প্রতিটা শব্দকে রক্ষা করব। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।’

এদিকে ভোট-পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে গত শনিবারই রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে ধর্না কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে কলকাতা পুলিশের তরফে অনুমতি মেলেনি, তা নিয়ে ‘অসন্তোষও’ প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের নেতারা।

সেদিকে ইঙ্গিত করে মমতা বলেছেন, ‘দিল্লি থেকে বিজেপি সরকার কলকাঠি নেড়ে তৃণমূলকে ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত করছে। রাত সাড়ে ১২টায় পুলিশ বলেছে ওয়াই চ্যানেলে কিছু করার জন্য অনুমতি নিতে হবে। এটা তো সম্ভব নয়। তাহলে আগে থেকে বলা যেত। আসলে এটা বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।’

ধর্না কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকেই কড়া পুলিশি পাহাড়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ একটা মিটিংকে আপনারা কারাগারে পরিণত করেছেন। আমাদের কর্মীদের আসতে দেওয়া হচ্ছে না।’

বিজেপি সরকাকে কড়া বার্তা দিয়ে মমতা আরও বলেছেন, ‘আমাদের কর্মীদের আসতে দিন। নয়তো লালবাজার ঘেরাও হবে, নবান্ন ঘেরাও হবে। আপনারা জায়গা দেবেন না তো? আমাদের জায়গা মানুষের মনে। যেখানে জায়গা পাব বসে যাব, আমাকে আটকাতে পারবেন না।’

এরআগে কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে মাল্যদান করার পর সোজা হেঁটে রওনা দেন ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলের দিকে। এরসময় তৃণমূল নেত্রীর হাতে ছিল ভারতের সংবিধানের একটি কপি।

সূত্র: আনন্দবাজার, বিবিসি বাংলা

এস