কূটনৈতিক তৎপরতা ও পাকিস্তানের ভূমিকা
যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের অনুরোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানা গেছে। ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা সময় দিতে রাজি হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানকে একটি সমন্বিত ও সুস্পষ্ট প্রস্তাব তৈরির সুযোগ করে দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
মার্কিন অবস্থানে সূক্ষ্ম পরিবর্তন
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের কাছে বেশ কিছু কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছিল—পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া। তবে ইরানের অনমনীয় অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এখন ওয়াশিংটন সরাসরি চাপ প্রয়োগের বদলে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের অপেক্ষায় রয়েছে। এটিকে কৌশলগত অবস্থানের পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত
যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানো হলেও সামরিক প্রস্তুতিতে কোনো শৈথিল্য দেখায়নি যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি ও সক্ষমতা আরও জোরদার করা হয়েছে, যা তেহরানের প্রতি পরোক্ষ বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের কাছ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রস্তাব না পাওয়ায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ইসলামাবাদ সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তেহরানের প্রস্তাব পর্যালোচনা শেষে পরবর্তী বৈঠকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অবরোধ বহাল, অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই অর্থনৈতিক চাপ ইরানকে আলোচনায় আসতে বাধ্য করবে। তবে ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের ওপর হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো সাময়িক স্বস্তি দিলেও পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
এনএইচ