‘ব্ল্যাক মিল্ক’ পানীয় কী?

গরু বা মহিষের মতো কোনো প্রাণী এই দুধের উৎস নয়। প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি ভেষজ পানীয় এই ‘ব্ল্যাক মিল্ক’ বা কালো তিলের দুধ। নাম থেকেই বোঝা যায় এই দুধে তিল রয়েছে। যার কারণে দুধের রংটাও কালো।

রেসিপি: এই দুধ তৈরি করতে কালো তিলের সঙ্গে কাজু বাদাম ও খেজুর মেশানো হয়। সবগুলো উপাদান একসঙ্গে বেটে পানিতে মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে ব্ল্যাক মিল্ক। অথবা ব্ল্যান্ডারে ব্ল্যান্ড করে নিতে পানে। পানের আগে মিশ্রণটি ছেঁকে নিতে ভুলবেন না।

কালো তিলে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম, আয়রন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ই এবং জিংক থাকে যা আমাদের স্বাস্থ্য ও ত্বকের জন্য বেশ উপকারী।

এই পানীয় পান করলে ত্বকের জেল্লা ফিরে আসার দাবির সত্যতা

পুষ্টিবিদেরা জানান, ব্ল্যাক মিল্কের উপকরণগুলো সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। তবে এই পানীয় পানে ত্বকে সরাসরি কোনও প্রভাব পড়বে না। তাই, এই পানীয় পান করলে ত্বকের জেল্লা বৃদ্ধির বা তারুণ্য ধরে রাখার দাবিটি বৈজ্ঞানিক নয়।

আরও পড়ুন: ক্যানসার থেকে বাঁচতে পান করুন এই তিন পানীয়

তবে হ্যাঁ, সুষম আহার, পর্যাপ্ত পানি পান, সঠিক ঘুম এবং উপযুক্ত স্কিনকেয়ার রুটিনের উপর ত্বকের স্বাস্থ্য নির্ভর করে। শুধু একটি খাবার বা পণ্য রাতারাতি ত্বকে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারে না। এর জন্য নিয়ম মেনে ত্বক ও স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে।

ফেসপ্যাক হিসেবে ব্ল্যাক মিল্কের অবশিষ্টাংশ

দুধটি ছেঁকে নেওয়ার পরে অবশিষ্ট অংশটি ফেলে দেবেন না। এটি ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। ছেঁকে নেওয়া মিশ্রণটি মুখে মেখে নিন। ৭ থেকে ৮ অপেক্ষা করে পানি দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করুন।

আরও পড়ুন: মেদ ঝরাবে ভেষজ চা

এই ফেসপ্যাক ব্যবহারে ত্বক অনেক কোমল হয়।

কারা এই পানীয় পান করতে পারবেন?

তিল বা কাজু বাদামে যাদের অ্যালার্জির সমস্যা হয় এই পানীয় তাদের জন্য নয়।

খেজুরে প্রাকৃতিক শর্করা থাকায় ডায়াবিটিস রোগীরা এই পানীয় পানের ক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হবে।

ব্ল্যাক মিল্ক সাধারণ দুধের বিকল্প নয়। কেননা, দুধে সাধারণত যে পরিমাণে প্রোটিন, ক্যালশিয়াম বা ভিটামিন বি-১২ থাকে তা এই ভেষজ পানীয়তে নেই।এমএম