আগামী জাতীয় নির্বাচনে সবাই নৌকা মার্কায় ভোট দিবেন কিনা জনগণের কাছ থেকে এমন প্রতিশ্রুতি নেন শেখ হাসিনা।

আজ (বুধবার) বিকেলে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে এক জনসভায় ভাষনদানকালে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এ প্রতিশ্রুতি নেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা সবাই দুই হাত তুলে ওয়াদা করে বলেন আগামীতে নৌকায় ভোট দিবেন কিনা।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, গুলশানে এয়ার কন্ডিশন রুমে বসে এদেশের মানুষের ওপর বোমা ও পেট্রোল মারার হুকুম দিয়ে থাকেন খালেদা।

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অবরোধের নামে বিগত তিন বছরে বিএনপি তিন হাজার দুইশো বাহান্নটি গাড়িতে, ৯ টি লঞ্চে, এমনকি প্রাইভেট কার ও এ্যাম্বুলেন্সে পর্যন্ত আগুন দেয়া হয়েছে, ৩৬ জন পুলিশকে হত্যা করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেই লুটপাট, চুরি ও দুর্নীতি করে। অপরদিকে, আওয়ামী লীগ মানেই উন্নয়ন, মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি কৃষককে গুলি করে হত্যা করে। কিন্তু আমরা সারের দাম কমিয়েছি। এখন মাত্র ১০ টাকায় কৃষকরা ব্যাংকে একাউন্ট করতে পারছেন। প্রায় ১ কোটি কৃষক এই সুবিধা পেয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮ সালে নৌকায় ভোট দিয়ে জনগণ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছে এবং পরবর্তীতে ২০১৪ সালে আবারো ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করেছে। নৌকায় ভোট দিয়েছে বলেই জনগণ উন্নয়নে পেয়েছে।

এছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনসহ আওয়ামী লীগ সব ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন করেছে তার বিস্তারিত তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ৮০ ভাগ মানুষ বিদ্যুত পাচ্ছেন। এখন আর আগের মতো লোডশেডিং হয় না। তিনি মানুষের কাছে জানতে চান তারা বিদ্যুত পাচ্ছেন কিনা।

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, প্রশাসনসহ সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে যেন একটি ছেলে-মেয়েও সন্ত্রাসের পথে না যায়।

তিনি বাবা-মাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আপনাদেরকেই দেখতে হবে আপনাদের সন্তানরা কার সাথে মিশে, কোথায় যায়।

শেখ হাসিনা ইসলাম ধর্মকে শান্তির ধর্ম উল্লেখ করে আরো বলেন, ইসলাম নিরীহ মানুষকে হত্যা সমর্থন করেনা। ইসলাম সবাইকে সহায়তার কথা বলে। ইসলাম কখনো আত্মহননের পথ সমর্থন করে না।

কেবি