গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রোজিফা বেগম মিনার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে মঙ্গলবার সকালে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মেম্বররা অবিলম্বে তাকে অপসারণসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ওই ইউনিয়নের মেম্বররা অনাস্থা প্রস্তাব জেলা প্রশাসক, পলাশবাড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশিষ্ট দপ্তরে দাখিল করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামগ্রিক কাজ তার একক সিদ্ধান্তে সম্পন্ন করাসহ ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন।
এছাড়া শপথ গ্রহণের ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে সরকারি নীতিমালা মোতাবেক মেম্বরদের মতামতের ভিত্তিতে প্যানেল চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়নি।
ইউপির পাকা বিল্ডিং ঘর থাকা স্বত্তেও চেয়ারম্যান নিজ বাড়িতে ইউনিয়নের সকল কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এমনকি গ্রাম্য আদালতের কার্যক্রমও তার বাড়িতেই পরিচালিত হচ্ছে।
খেয়াল খুশিমত গ্রাম আদালতের বিচারাধীন কার্যক্রম স্থগিত রেখে এবং বিলম্বিত করে বিচার প্রার্থী জনগনকে নানাভাবে হয়রানী করা হচ্ছে।
বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা তাদের পাওয়ার উপর্যুক্ত ব্যক্তিদের না দিয়ে নিজের কিছু পছন্দ মত লোক নামমাত্র দিয়ে বাকি সব অর্থ আত্মসাৎ করেন।
এ সকল অনিয়ম ও দুর্নীতি কার্যক্রমে সহযোগিতা করে চেয়ারম্যানের ভাতিজা ফারুক মিয়া ও ভাই শফিকুল ইসলামসহ অনেকে।
এছাড়াও ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ৩৪/১১ নং মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে অনিয়ম করায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৫ দিনের কারাদন্ড প্রদান করা হয়। যা আপিল করায় বিচারাধীন রয়েছে। অত্র ইউপির গ্রাম পুলিশদের সাথে সবসময় অসদাচারণ করেন এবং তার পেটুয়া বাহিনী দ্বারা গ্রাম পুলিশ রবিলালকে রাতের অন্ধকারে মারপিট করায় এ ব্যাপারে পলাশবাড়ি থানায় গত ৬ এপ্রিল মামলা (নং ০২) দায়ের করা হয়।
উক্ত চেয়ারম্যান জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর দ্বারা প্রতিপক্ষদের হয়রানী ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নানা অনাচার এবং অনিয়ম করে আসছেন।
উল্লেখ্য, ইউপির বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্প তৈরী করে ননওয়েজ, এডিবির শতকরা ১ ভাগের সংগৃহীত ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।
এলজিএসপি’র বরাদ্দকৃত টাকা তার মনগড়া মত ভাগ বন্টন করে এবং বরাদ্দকৃত টাকার প্রকল্প সমূহ কোটেশনের মাধ্যমে নামে মাত্র প্রদর্শন করা হয়।
এলজিএসপির সকল উন্নয়নমূলক কাজ ঠিকাদারের দ্বারা না করে নিজে মনগড়াভাবে নাম মাত্র কাজ দেখিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেন।
ভিজিডির ও ভিজিএফ এর মালামাল তার নিজ বাড়ি হতে সরকারি নিয়ম ছাড়াই নিজ ইচ্ছায় কম করে বিতরণ করেন।
কাবিখা, টিআর টন প্রতি ৭ হাজার টাকা কমিশন বা পিসি দিতে হয়। তা না দিলে কাজ দেয় না।
২০১৪-১৫ অর্থ বছরের ননওয়েজের ১ লাখ ৭৫ টাকা ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সম্পুর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেন।
তদন্তকালিন সময়ে চেয়ারম্যানের আরও বহু অনিময়-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা প্রমাণিত হবে।
এছাড়া মহান বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, ভাষা দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে ইউপি অফিসে সঠিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, ইউপি মেম্বর সুজাত আলী প্রধান, হাবিবুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, সেলিম রেজা মুন্সি, নওশা মিয়া, মোস্তাফিজুর রহমান, আব্দুল আজিজ তারা, খোকা মিয়া, সাবানা আকতার দিনা, শ্রী লিপি রাণী প্রমুখ।
এসএইচ





