অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে বান্দরবানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এছাড়া প্রধান সড়কে পানি জমে যাওয়ায় সারাদেশের সঙ্গে বান্দরবানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চব্বিশ ঘণ্টায় বান্দরবানে ১০২ মি.মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার মৃত্তিকা ও পানি সংরক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান।
এদিকে প্রধান সড়কের বাজালিয়া এলাকায় পানি জমে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
বেইলি ব্রিজ তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কেও দু’দিন ধরে বন্ধ রয়েছে যানবাহন চলাচল ।
অন্যদিকে পাহাড় ভেঙে সড়ক ধসে যাওয়ায় ১০দিন ধরে বান্দরবানের সঙ্গে রুমা ও থানছি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে জেলা শহরের মেম্বারপাড়া, আর্মিপাড়া, শেরেবাংলা নগর, বালাঘাটা, ইসলামপুর, উজানীপাড়া, মধ্যমপাড়া এবং লামা, রুমা ও থানছি উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বন্যাদুর্গত অঞ্চলের শত শত পরিবার আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খোলা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, পৌর এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া বন্যাদুর্গত ৫৬৫ পরিবারের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
পৌর এলাকায় বন্যায় প্রায় ৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে পৌর মেয়র মোহাম্মদ জাবেদ রেজা জানিয়েছেন। নৌকা দিয়ে দুর্গত এলাকার মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।
কেএইচ





