গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় নেত্রকোনা বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণ করল বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে সোমবার বিকেলে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ এই স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করে।

‘সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ, উপড়ে ফেলো বিষদাঁত’ এই স্লোগান নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ গানটি দলীয়ভাবে পরিবেশন করেন উদীচীর শিল্পীরা। এরপর সেখানে স্থাপিত অস্থায়ী বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা মহানগর সংসদসহ বিভিন্ন শাখা ও সংসদের নেতারা। এ ছাড়াও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরসহ কয়েকটি সমমনা সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও বেদিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়।

উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি কামাল লোহানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলাম, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হাসান তারেক, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল্লাহেল কাফি রতন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজ্জাদ জহির চন্দন, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান সাগর, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ, উদীচীর সহ-সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরদারসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উদীচীর সহ-সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন।

২০০৫ সালের ৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে নেত্রকোনায় উদীচী কার্যালয় লাগোয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন শতদল গোষ্ঠীর কার্যালয়ে একটি বোমা পড়ে থাকতে দেখে এক পথচারী। বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি খাজা হায়দার হোসেন এবং সুদীপ্তা পাল শেলীসহ উদীচীর নেতৃবৃন্দও ভিড় করেন ঘটনাটি দেখতে। এর ঘণ্টাখানেক পর সাইকেল আরোহী এক যুবক নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে উদীচী নেতৃবৃন্দের কাছাকাছি পৌঁছেই তার সাইকেলে বহন করে আনা বোমা বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটালে মারা যান উদীচীর সহ-সাধারণ সম্পাদক খাজা হায়দার হোসেনসহ সাতজন। বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন নয়জন পুলিশ সদস্য এবং উদীচীর বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীসহ ৬০ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন মারা যান সুদীপ্তা পাল শেলী।

জেআই