বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সহ-সভাপতি ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, সরকারের বেধে দেয়া সময়ের মধ্যেই ট্যানারি শিল্প হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তর করতে হবে। আগামী কোরবানি ঈদে হাজারীবাগে কোনো চামড়া উঠবে না।
সাভারের হরিণধরায় ট্যানারি শিল্পনগরী সরেজমিনে পরিদর্শনকালে শুক্রবার তিনি এ কথা বলেন।
সরকারের বেধে দেয়া সাত দিনের মধ্যে ট্যানারি স্থানান্তর কাজের অগ্রগতি দেখতে ও জানতে বাপা’র ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সাভারের এ চামড়া শিল্প নগরী পরিদর্শন করেন।
সৈয়দ মকসুদ বলেন, ‘মূলত হাজারীবাগের মালিকদের গরজের অভাবেই সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরিত হচ্ছে না। একইসঙ্গে সরকারের আন্তরিকতাও এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়।’
নির্বাহী সদস্য জাকির হোসেন বলেন, ‘মূলত সরকারের প্রকল্প মনিটরিংয়ের অভাবেই এ স্থানান্তর কাজ এগোচ্ছে না। আর মনিটরিং না হওয়ার কারণ মালিকরা সরকারের লোক।’
তবে সাভারে চামড়া শিল্প নগরী স্থাপনে সরকারি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আবুল মকসুদ বলেন, সরকারের একার পক্ষে এ প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। সরকার ও ট্যানারি মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সমন্বিত উদ্যোগ ও আন্তরিকতাতেই সম্ভব এ মহাযজ্ঞ বাস্তবায়ন করা।
একইসঙ্গে ট্যানারি স্থানান্তর কাজে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখানে কাজ চলছে ঢিমেতালে। অবকাঠামো নির্মাণ, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও মেশিন স্থাপনের কাজও শেষ হয়নি। সিইটিপি (সেন্ট্রাল ইফলেন্ট প্ল্যান্ট- কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার) নির্মাণাধীন রয়েছে, যা এখনো কাজের উপযোগী নয়। শেষ হয়নি এক-চতুর্থাংশ মালিকের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ।
হাজারীবাগের ট্যানারির কারণে বুড়িগঙ্গার করুণ পরিণতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়নে যাতে পাশের বংশী নদী আবার ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে সরকারকেই গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখতে হবে। এ প্রকল্পে আধুনিক প্রযুক্তির উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
এম আর





