গ্রীষ্ম যতই বেদনাদায়ক হোক, ফলাহারের জন্য এর কোনও তুলনা নেই। গরমে ঘেমে গলদঘর্ম হয়ে তাই সামনে নানা ফলে সাজানো থালা দেখলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়।

যতই সুস্বাদু ফলের যোগান মেলে গরম কালেই। তা দিয়ে সুস্বাদু ডেজার্টেরও রমরমা ভালই। আর এই স্বাদের নিরিখে যে তিনটি গ্রীষ্মের ফল সবচেয়ে এগিয়ে থাকে, সেগুলি হল আম, লিচু আর কাঁঠাল।

আম, লিচু নিয়ে অনেক বিলাসিতা থাকলেও, স্বাদে এগিয়ে থাকলেও কাঁঠাল একটু বঞ্চিতদের দলেই থাকে। এই ফলের গুণাগুণ সম্পর্কে কেউ তেমন ওয়াকিবহল নয়।

১. কাঁঠালে থাকা ফাইবার, প্রোটিণ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণে ফলটি খেতে মিষ্টি হলেও ডায়াবেটিস বাড়ায় না।

২. কাঁঠালে থাকা পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে হৃৎপিণ্ডও সুস্থ রাখে।

৩. কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে যা অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করে। এছাড়া এতে থাকা কপার এবং ম্যাগনেশিয়াম খনিজ দুটি শরীরে রক্ত তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৪. কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে ডিয়াটরী ফাইবার থাকে। এটি হজমশক্তি বাড়ায় এবং কোষ্টকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।

৫.কাঁঠালে উপস্থিত ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটিন দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

৬. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ কাঁঠাল ত্বকের বয়সজনিত বলিরেখা দূর করে। এতে থাকা পর্যাপ্ত পানি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া ভিটামিন সি’র ভাল উৎস হওয়ায় কাঁঠাল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

৭. কাঁঠাল ক্যালসিয়ামের ভাল উৎস। ফলে এটি হাড়ের সুরক্ষা করে।

৮. এই ফল নিয়মিত খেলে পাইলস ও কোলন ক্যান্সারের আশঙ্কা কমে।

৯. কাঁঠাল ফাইবার-সমৃদ্ধ ফল হওয়ায় হজমশক্তি বাড়ায় এবং পেট পরিষ্কার রাখে।

১০. কাঁঠাল খেতে মিষ্টি। কিন্তু এই ফল খেয়ে ডায়াবিটিস বেড়ে যাওয়ার তেমন আশঙ্কা নেই। বরং শরীরে শক্তি জোগাতে এর জুড়ি মেলা ভার।

এএস