কুষ্টিয়ায় বন্যায় প্রায় ৯০ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। সম্প্রতি ভারতের ফারাক্কার পানিতে সৃষ্ট বন্যায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও ভেড়ামারার উপজেলায় কৃষি খাতে এ ক্ষতি হয়।
দৌলতপুর ও ভেড়ামারার প্রায় ৪১টি ইউনিয়নে ধান, মরিচ, বেগুনসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় এ অঞ্চলের প্রধান ফসল আউস ধানের বেশিরভাগই তলিয়ে গেছে। অনেকেই এক ছটাক ধানও তুলতে পারেনি ঘরে। ফলে অধিকাংশ মানুষের ঘরে খাবার নেই।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের কর্মকর্তা শাহিদা খানম জানান, ফারাক্কার পানিতে দৌলতপুরের মরিচা, রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, ফিলিপনগর ইউনিয়নের ১ হাজার ৫’শ হেক্টর কৃষি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়।
এর মধ্যে আউশের ৮’শ ৪৫ হেক্টর, বেগুনের ৩৩ হেক্টর, মরিচের ৬৪হেক্টর জমি পানিতে নষ্ট হয়েছে। যার বর্তমান বাজার মুল্য প্রায় ৯০ লাখ টাকা।
তিনি আরো জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কৃষি সম্প্রসারণের জরিপকৃত প্রাথমিক হিসেবে করা হয়েছে। এর বাইরে চরের জমিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভেড়ামারার দুটি ইউনিয়নেও বেশ ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ জানান, চিলমারীসহ ৪টি ইউনিয়নের আউশসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এর মধ্যে মরিচ ও বেগুনের ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশী হয়েছে। তিনি দাবী করেন, চরাঞ্চলের মরিচ ও বেগুন সারাদেশে সরবরাহ হতো। মরিচ পানিতে ডুবে যাওয়ায় সরবরাহ কম। আর সরবরাহ কম থাকায় সারাদেশে মরিচের দাম বেড়েছে।
তিনি আরো বলেন, চরাঞ্চলের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সরকারী হিসেবে উঠে না। কারণ তারা শুধুমাত্র রেকর্ডভুক্ত কৃষি জমির হিসাব করে। চরাঞ্চলের ফসলের জমির হিসাব সরকারি হিসাবের বাইরে রাখে তারা। তিনি দাবী করেন, প্রায় ২’শ হেক্টর জমির বেগুন ও মরিচ বিনষ্ট হয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌফিকুর রহমান বলেন, আমরা চেষ্টা করছি ক্ষতি কাটিয়ে উঠার। দুর্গত এলাকায় এ পর্যন্ত ২৩ মেট্রিকটন চাল বিতরণ করা হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হায়াত মাহমুদ বলেন, আমরা বিভিন্ন প্রনোদনা মূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে কৃষকদের পাশে দাঁড়াবো।
এসএম





