এ ছাড়া বিপ্লব কুমারের বৈধ ও জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসংগতিপূর্ণ ১ কোটি ৩ লাখ ৬২ হাজার ৪৯৭ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি। এ কারণে বিপ্লব কুমারকে দ্রুত সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুধক।
গতকাল রোববার দুদক কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির সচিব সাইদুর রহমান খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।২১ ব্যাংকে ৩২৫ হিসাব: দুর্নীতির অভিনব কৌশলদুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, সরকারি উচ্চপদে আসীন থাকা অবস্থায় ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত কালো টাকা আড়াল করতে নানামুখী কৌশল অবলম্বন করেছিলেন বিপ্লব কুমার। নিজের এবং পরিবারের সদস্য ও নিকটস্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে দেশের ২১টি ব্যাংকে ৩২৫টি, ২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৩টি এবং ৭টি ব্রোকারেজ হাউসে ১৩টিসহ মোট ৩৪১টি হিসাব খোলেন তিনি।
দুদক সচিব জানান, পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুস-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করেছেন এসব হিসাবের মাধ্যমে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য পরীক্ষা করে প্রায় ৬১ কোটি টাকার অধিক মোট লেনদেনের (জমা ও উত্তোলন) প্রমাণ মিলল।
এক নজরে বিপ্লব কুমারের ব্যাংক ও আর্থিক লেনদেনবিবরণসংখ্যা / পরিমাণমোট হিসাব (অ্যাকাউন্ট) সংখ্যা৩৪১টিব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা (২১টি ব্যাংকে)৩২৫টিআর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব৩টিব্রোকারেজ হাউসের হিসাব১৩টিমোট জমা টাকা৩০ কোটি ৭২ লাখ টাকামোট উত্তোলন টাকা৩০ কোটি ১৩ লাখ টাকাজ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রাথমিক সম্পদ১ কোটি ৩ লাখ ৬২ হাজার টাকাজুলাই বিপ্লবের পর সীমান্ত পেরিয়ে আত্মগোপন২০২৪ সালের আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পরই আত্মগোপনে চলে যান সাবেক এই বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা।
পরবর্তী সময়ে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তিনি অবৈধ উপায়ে ভারতে প্রবেশ করে বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন, যেখানে তার নিকটাত্মীয়রা বসবাস করেন।ক্ষমতার অপব্যবহার, নির্যাতন, ও জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাণহানির ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বর্তমানে তাঁর নামে ও বেনামে থাকা অন্যান্য স্থাবর সম্পদ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অন্যান্য সম্পদের তথ্য অনুসন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দুদকের তদন্ত দল।
এমএম











