এর মানে এই নয় যে, মাঝে মাঝে মাংস খেলে ক্যান্সার হবে। মূল উদ্বেগের বিষয় হলো দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত এবং বেশি পরিমাণে মাংস খাওয়া, বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত মাংস।
রেড মিট এবং প্রসেসড মিট বলতে কী বোঝায়?
রেড মিটের মধ্যে স্তন্যপায়ী প্রাণির অপ্রক্রিয়াজাত মাংস অন্তর্ভুক্ত, যেমন গরুর মাংস, মহিষের মাংস, ভেড়ার মাংস এবং ছাগলের মাংস। এটি টাটকা, কিমা করা বা হিমায়িত হতে পারে।
প্রক্রিয়াজাত মাংস ভিন্ন। এটি এমন মাংসকে বোঝায় যা স্বাদ উন্নত করতে বা সংরক্ষণের জন্য লবণ দেওয়া, কিউরিং, গাঁজন বা ধোঁয়া দেওয়ার মতো পদ্ধতির মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ সসেজ, কর্নড বিফ এবং কিছু টিনজাত মাংসের পণ্য।
সুতরাং, প্রক্রিয়াজাত মাংস এক ধরনের মাংসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এমনকী পোল্ট্রি থেকে তৈরি কিছু পণ্যও এই বিভাগের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে যদি সেগুলো কিউরিং বা ধোঁয়া দেওয়ার মতো প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যায়।
মাংস খাওয়ার সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের সম্পর্ক কী?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি অংশ ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (IARC), লাল এবং প্রক্রিয়াজাত মাংসের ওপর প্রমাণ মূল্যায়ন করেছে।
IARC প্রক্রিয়াজাত মাংসকে মানুষের জন্য কার্সিনোজেনিক বা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করে, কারণ এর পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে যে এটি গ্রহণের ফলে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার হতে পারে। লাল মাংসকে মানুষের জন্য সম্ভবত ক্যান্সার সৃষ্টিকারী (কার্সিনোজেনিক) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, এবং এটি খাওয়ার সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের সংযোগের প্রমাণ সীমিত।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রমাণের সারসংক্ষেপ অনুসারে, প্রক্রিয়াজাত মাংসের সাথে সম্পর্কিত ঝুঁকি সাধারণত গ্রহণের পরিমাণের সঙ্গে বৃদ্ধি পায়। ১০টি গবেষণার একটি বিশ্লেষণে অনুমান করা হয়েছে যে, প্রতিদিন ৫০ গ্রাম প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়া কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ১৮% বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।
রেড মিটের ক্ষেত্রে প্রমাণ ততটা সুনিশ্চিত নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উল্লেখ করেছে যে, যদি পর্যবেক্ষণকৃত সম্পর্কটি কার্যকারণমূলক হয়, তবে তথ্য থেকে বোঝা যায় যে প্রতিদিন ১০০ গ্রাম লাল মাংস খেলে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ১৭% বাড়তে পারে।
এই পরিসংখ্যানগুলো আপেক্ষিক ঝুঁকির পরিবর্তন বর্ণনা করে এবং এটিকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয় যে, কোনো ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মাংস খেলে তার ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা ১৭% বা ১৮%।
প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রান্নার সময় কী ঘটে?
গবেষকরা বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য প্রক্রিয়া প্রস্তাব করেছেন যার মাধ্যমে মাংস কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি, যেমন কিউরিং এবং স্মোকিং, কিছু সম্ভাব্য কার্সিনোজেনিক (ক্যান্সার সৃষ্টিকারী) যৌগ তৈরি করতে পারে, যার মধ্যে এন-নাইট্রোসো যৌগ অন্তর্ভুক্ত। খুব উচ্চ তাপমাত্রায় মাংস রান্না করলে, বিশেষ করে যখন এটি গ্রিল, বারবিকিউ বা প্যান-ফ্রাই করা হয়, তখন হেটেরোসাইক্লিক অ্যারোমেটিক অ্যামাইন এবং পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনের মতো যৌগও তৈরি হতে পারে। তবে মাংস, রান্নার পদ্ধতি এবং ক্যান্সারের ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্কটি জটিল এবং এর প্রতিটি দিক সম্পূর্ণরূপে বোঝা যায়নি।
মাংস খাওয়া বন্ধ করতে হবে?
এমনটা জরুরি নয়। রেড মিটে প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক এবং বি ভিটামিনসহ বিভিন্ন দরকারি পুষ্টি উপাদান রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (WHO) উল্লেখ করেছে যে মাংস একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। মূল উদ্বেগটি হলো নিয়মিত মাংস খাওয়া, বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত মাংস বেশি পরিমাণে গ্রহণ করা নিয়ে; এর মানে এই নয় যে সবাইকে মাংস পুরোপুরি বর্জন করতে হবে।
একটি বাস্তবসম্মত উপায় হলো প্রক্রিয়াজাত মাংসকে আপনার খাদ্যাভ্যাসের একটি নিয়মিত অংশ না বানানো। এ ধরনের খাবার কম খাওয়া যেতে পারে, এবং খাবারে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবার যোগ করা যেতে পারে।
এমএম











