হয়রানি, ভোগান্তি আর দুর্নীতি যেন জেঁকে বসেছে খুলনার উপজেলাগুলোর ভূমি অফিসে। জমি ক্রয় বা বিক্রয় করতে অথবা নাম পরিবর্তন করতে সাধারণ মানুষকে অফিসে ঘুরতে হয় দিনের পর দিন। তার ওপর বেশীরভাগ উপজেলাতে সহকারী ভূমি কমিশনারের পদ শূন্য থাকায় কার্যক্রম চলছে ঢিমেতালে।
খুলনা মহানগর সংলগ্ন রূপসা, বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়াসহ ৯টি উপজেলার ভূমি অফিসে সব অনিয়মই এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। কোন কাজের সহসা সমাধান পান না সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, জমি বেচাকেনা বা জমি সংক্রান্ত যে কোন কাজ করতে দিতে হয় উৎকোচ। নাম পরিবর্তন ও খতিয়ানে সরকারি ধার্য করা নির্ধারিত ফি'র চেয়ে কয়েকগুণ বেশী আদায় করা হয়। আর অপেক্ষা করতে হয় মাসের পর মাস। এছাড়া রয়েছে দালালদের দৌরাত্ম।
এদিকে অভিযোগের বিষয়টি স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মকর্তা এড়িয়ে গেলেও রূপসা উপজেলা চেয়ারম্যান এজন্য দীর্ঘদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী ভূমি কমিশনারের পদ শূন্যতাকে দায়ী করেন।
এ প্রসঙ্গে রূপসা উপজেলা চেয়ারম্যান মো: কামাল উদ্দিন বাদশা বলেন, 'এই টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে যদি রিসিটের ব্যবস্থা থাকে তাহলে জনগণের হয়ত ভোগান্তি কমবে। আর এখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী ভূমি কমিশনারের পদ দীর্ঘদিন থেকে শূন্য। এ কারণে ভোগান্তিটা আর একটু বেশী।'
এদিকে উপজেলাগুলোতে সহকারী ভূমি কশিনারের পদ শূন্যতার কারণে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের।
এ প্রসঙ্গে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো:মিজানুর রহমান বলেন, 'যেহেতু অ্যাসিলেন্ড নেই সেহেতু আমাদেরকে দুই দিক সামাল দিতে হয়। তাই স্বাভাবিক কারণে কিছু না কিছু ঘাটতি থেকেই যায়। আবার দেখা যায় এক ইউএনওকে কয়েকটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করতে হয়। এ কারণে সমস্যাটা আর একটু বেশী দেখা যায়।'
খুলনার ৬টি উপজেলায় সহকারী ভূমি কমশিনার এবং দুটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে।
জেআই





