কক্সবাজারের রামুতে পাহাড়ি ঢলে ভেসে যাওয়া নিখোঁজ দুই জনের লাশ পাওয়া গেছে। শনিবার সকালে তাদের দুই জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে কক্সবাজারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়াল।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের টানা বর্ষণে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝড়ো হাওয়াসহ ভারি বর্ষণ হতে পারে। এতে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
১৩ জনের মধ্যে রামুতে পাহাড়ি ঢলে আট জন, সেন্টমার্টিন দ্বীপে ঝড়ো হাওয়ায় গাছ চাপা পড়ে দুই জন, কক্সবাজার শহরে পাহাড় ধসে এক জন, পেকুয়ায় মায়ের কোল থেকে পড়ে এক শিশু ও চকরিয়ায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়।
মৃতরা হলেন-রামু উপজেলার ফতেঁখারকুল ইউনিয়নের আমতলিয়া পাড়ার হালিমা বেগম, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের মিতারছড়ার জাকির হোসেনের ছেলে রিদুয়ান, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের দক্ষিণ বিটের জিনু মিয়া, কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের উখিয়ারঘোনার মৃত রুহুল আমিনের ছেলে আমির হোসেন, কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের তিতারপাড়ার সুলতানের মেয়ে খতিজা বেগম, এরশাদ উল্লাহর মেয়ে হুমায়ারা বেগম, টেকনাফ উপজেলার কোনারপাড়া এলাকার নূর মোহাম্মদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (২৫) ও তাদের শিশু সন্তান মোহাম্মদ জিসান (৪), কক্সবাজার শহরের ঘোনায়পাড়ায় পাহাড় ধসে আবছার (৩) ও চকরিয়ায় লক্ষারচরে আনোয়ার হোসেন। এছাড়া আড়াই বছরের এক শিশুও রয়েছে। বাকি দুইজনের নাম জানা যায়নি।
এছাড়া টানা বর্ষণে রামুর ছয়টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি। দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চেইন্দা এলাকায় সড়কের প্লাবিত হয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, চকরিয়া পৌরসভাসহ উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে। এতে দেড় শতাধিক চিংড়ি ঘের, পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে চকরিয়া-বদরখালী সড়কে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, কক্সবাজারে ৪৮ ঘণ্টায় ৬৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ৪৭ বছরে এমন বৃষ্টিপাত আর হয়নি।
কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. অনুপম সাহা জানান, বন্যা দুর্গতসহ দুর্যোগ কবলিত সব মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এসব মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে। পাশপাশি ত্রাণ ও সুপেয় পানি বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেআই





