এবার র‌্যাব-১৪ এর অধিনায়ক মেজর সাকিব সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের এক যুবককে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক আদম বেপারি র‌্যাবকে দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে নিহতের ভাই অভিযোগ করেছেন।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব এর হাতে আটক হয়ে নির্যাতনে নিহত শাহীনুর আলমের ছোট ভাই মাওলানা মেহেদী হাসান এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে মেহেদী হাসান বলেন,‘আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে এলাকায় কারো কোনো অভিযোগ নেই। তার নামে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও  ছিল না। অথচ তাকে চাঁদাবাজি মামলার আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদীকে জোর করেই বাদী করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘র‌্যাব আমার সুস্থ ও নির্দোষ ভাইকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন ও অত্যাচার চালিয়েছে। এর ফলেই আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। আমরা র‌্যাব কর্মকর্তার নামে থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাই পাশের গ্রামের আদম বেপারী নজরুলের কাছে সাত লাখ টাকা পাওনা ছিল। এ টাকার জন্য সে তার কাছে ধর্ণা দিতো। এক পর্যায়ে আমার বোন নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা করে। পরে নজরুলও আমার বোনের বিরুদ্ধে মিথ্যা দুটি মামলা করে। সেই আদম বেপারী নজরুলই র‌্যাব-১৪ কে দিয়ে আমার ভাইকে হত্যা করিয়েছে।
মেহেদী অভিযোগ করেন, গত ২৯ এপ্রিল দুপুরে তার ভাইকে র‌্যাব-১৪ ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বগডহর গ্রাম থেকে আটক করে নিয়ে যায়। এ সময় তার মুখ ও চোখ বাঁধে র‌্যাবের কর্মকর্তারা। তারা তাকে গাড়িতে তুলে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে সন্ধ্যায় ভৈরব ক্যাম্পে নিয়ে যায়। ‘আমার ভাইকে ওইদিন রাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা শরীরের বিভিন্ন অংশে, কোমরে, পায়ের তলায়, কনুইয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করে। পরদিন তাকে নবীনগর পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা আবু তাহেরেকে থানায় ডেকে এনে বাদী করে জোর করে মামলা করায় র‌্যাব। পরদিন তাকে আদালতে চালান দিলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। সেখানে দুইদিন থাকার পর সে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পরে ওইদিনই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সে বিকেলে মারা যায়।’
মেহেদী পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা র‌্যাবের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলে তারা মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বারবার তাদের কাছে ধর্না দিয়েও মামলা করতে না পারায় এখন আমরা হাইকোর্টে মামলা করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নিহতের ভাই মাহিনুর আলম, বোন জামাই শফিকুল ইসলাম, মামাতো ভাই ইমরান হোসেন, ডা. মাওলানা শওকত আমিন।
[b]ঢাকা, ২০ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ[/b]