দুর্ঘটনার পরদিন সাভার থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১৬ সালে আদালতে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হলেও নানা কারণে দীর্ঘ সময় স্থবির হয়ে পড়ে মামলার কার্যক্রম। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ, সাক্ষীর অনুপস্থিতি এবং অন্যান্য আইনি জটিলতায় বিচারপ্রক্রিয়া বারবার বিলম্বিত হয়েছে।

বর্তমানে আসামির সংখ্যা ৩৮ জন। তাদের মধ্যে সোহেল রানা কারাগারে রয়েছেন, ১৩ জন পলাতক এবং বাকিরা জামিনে। হত্যা মামলায় মোট ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৪৫ জন, যা মোটের প্রায় ২৪ শতাংশ। ২০১৯ সালে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলেও মাঝখানে প্রায় ছয় বছর কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার আগের দিন ভবনে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিলেও শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। পরদিন সকালে জেনারেটর চালু হওয়ার পরপরই ভবনটি ধসে পড়ে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে হত্যা, আঘাত এবং যৌথ অপরাধের অভিযোগ।

বর্তমানে মামলাটি ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে চলতি বছরের মধ্যেই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে রায় ঘোষণা করা সম্ভব হতে পারে।

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হত্যা মামলা ছাড়াও দুর্নীতি, ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘনসহ প্রায় ২০টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত কেবল দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি মামলার রায় হয়েছে। অন্য মামলাগুলো এখনো বিচারাধীন।

আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, দীর্ঘসূত্রতার কারণে ন্যায়বিচার ব্যাহত হচ্ছে এবং এতে অভিযুক্তরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে ভুক্তভোগী শ্রমিক ও নিহতদের পরিবার বলছে, তারা বছরের পর বছর ধরে ন্যায়বিচার ও যথাযথ ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় আছেন।

ধসে বেঁচে যাওয়া অনেক শ্রমিক এখনো শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন। অনেকেই আর আগের মতো কাজ করতে সক্ষম নন। তাদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর কিছু সহায়তা পেলেও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন বা পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনার বিচার দ্রুত সম্পন্ন না হলে তা শুধু ভুক্তভোগীদের প্রতি অবিচার নয়, বরং দেশের শ্রম অধিকার ও শিল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও রানা প্লাজা ট্রাজেডি এখনো বিচারহীনতার প্রতীক হয়ে আছে—যেখানে ন্যায়বিচার ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার প্রশ্ন আজও অমীমাংসিত।

এনএইচ