বাংলা সাহিত্যের দিকপাল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে ভারতের অর্থায়নে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন কমপ্লেক্স ভবন।

২০১৩ সালের ৫ মার্চ ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি শিলাইদহ সফরে এসে কুঠিবাড়ির নানা সমস্যা অনুধাবন করে কমপ্লেক্স স্থাপনে প্রায় ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। কুঠিবাড়ির প্রধান ফটকের সামনে ৬ একর জমিতে নির্মিত হবে এই কমপ্লেক্স।

যার ডিজাইন সম্পন্ন করেছেন দেশের বিশিষ্ট স্থপতি রবিউল হুসাইন। কুষ্টিয়া শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে সবুজে ঘেরা নিরিবিলি ঠাকুর পরিবারের কুঠিবাড়ি। প্রায় দশ বছর এখানেই ছিলো কবিগুরুর বসবাস। কখনো বজরায়, কখনো ঘরের কোণে মজে থাকতেন সাহিত্যের অনবদ্য সব সৃষ্টিতে।জমিদারির কাজে সবুজঘেরা নিরিবিলি এই কুঠিবাড়িতে বারবার ফিরে আসতেন চির নতুনের কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

তাঁকে নোবেল পুরস্কার এনে দেয়া গীতাঞ্জলির বেশিরভাগ গান এই কুঠিবাড়ির বকুলতলায় বসেই লিখেছিলেন রবি ঠাকুর। রবীন্দ্র সাহিত্য চরিত্র চিত্রণে এক বড় অংশ জুড়ে আছে, কুষ্টিয়ার শিলাইদহের স্মৃতি। আর তাই এই স্মৃতি সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এরই মধ্যে কুঠিবাড়ির পাশে একটি কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়ে গেছে। এটি তৈরিতে খরচ হবে ১৩ কোটি টাকা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পদচারণায় ধন্য এই কুঠিবাড়ি সব সময়ই দেশী বিদেশী পর্যটকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। পদ্মা নদীর সন্নিকটে ছায়া শীতল পরিবেশে অবস্থিত, কুঠিবাড়ি দর্শনে তাই আগমন ঘটে অসংখ্য পর্যটকদের।

কুঠিবাড়ি রবীন্দ্র প্রেমীদের মুগ্ধ করলেও বিড়ম্বনাও কম পোহাতে হয় না! খাবার খাওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই, নেই কোন টয়লেটের ব্যবস্থা। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা শঙ্কার পাশাপাশি রয়েছে আবাসনের দু:শ্চিন্তা, রেষ্ট হাউজসহ অবকাঠামোগত সমস্যা থাকায় পর্যটকদের আকর্ষণও দিন দিন কমে যাচ্ছে।

ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ সফরের কালে কুঠিবাড়ি পরিদর্শনে আসেন। তখন এসব বিড়ম্বনার চিত্র অনুধাবন করে, ’অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে ভারত সরকার এ প্রকল্পে জন্য প্রায় ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এরপরই পাল্টাতে থাকে কুঠিবাড়ির দৃশ্যপট।

কুঠিবাড়ির প্রধান ফটকের সামনে, দীর্ঘদিন অন্যের দখলে থাকা ৬ একর জমি উদ্ধার করে স্থানীয় প্রশাসন। এখন সেখানেই নির্মিত হবে এই কমপ্লেক্স ভবন। এরই মধ্যে এর ফলকও উন্মোচন করা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌথভাবে ওই স্মৃতিফলক উন্মোচন করেন।

কমপ্লেক্সের ডিজাইনও এর মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। কমপ্লেক্সের মধ্যে রয়েছে গ্রীক থিয়েটারের আদলে একটি দৃষ্টিনন্দন মঞ্চ এবং এম্ফি থিয়েটার, রয়েছে দৃষ্টি নন্দন ক্যাফেটারিয়া, লাইব্রেরী কাম ডকুমেন্টেশন সেন্টার, অত্যাধুনিক গেষ্টহাউজ, টয়লেট ও আনছার শেড।প্রবেশ মুখে থাকছে কুঠিবাড়ির আদলে অত্যাধুনিক গেইট এবং টিকেট কাউন্টার। সংস্কৃতিকর্মী ও দর্শনার্থীরা মনে করেন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে, কুঠিবাড়ি আরো সমৃদ্ধ হবে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ির কাষ্টোডিয়ান মোখলেছুর রহমান জানান, নতুন কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের জন্য, ইতিমধ্যে ভারতের কাছ থেকে ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। নতুন কমপ্লেক্স ভবনের ডিজাইনও সম্পন্ন হয়েছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দ্রুততম সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

এমবিএইচ