সারাদেশ ছাড়িয়ে পুরাে বিশ্বে তখন চলছে করােনা মহামারি। চারিদিকে চলছে হাহাকার। চিকিৎসা বঞ্চনার শিকার অসংখ্য মানুষ। ঠিক তখনি মানবতার ফেরিওয়ালা হয়ে আবির্ভূত হন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া। বঞ্চিত শ্রেণিকে চিকিৎসা সেবা দিতে গড়ে তুলেন চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল।

কি আছে এই হাসপাতালে? বিদ্যুৎ বড়ুয়ার এই উদ্যোগে এগিয়ে এসেছে, দেশের শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠান নাভানা গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির একটি দ্বিতল ভবনের ৬ হাজার ৫০০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে এই হাসপাতালটি। যেখানে ইতােমধ্যে বেশকটি আইসিইউ বেড ও ভেন্টিলেটর সংযুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া, করােনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক, নার্স ও স্বেচ্ছাসেবক মিলিয়ে মােট ৩৫ জনের একটি দল গঠন করা হয়েছে।

কারা দিচ্ছেন এই চিকিৎসা সেবা? চিকিৎসক আর নার্সদের পাশাপাশি এই হাসপাতালে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, একদল অদম্য তরুণ। যারা সবাই স্বেচ্ছাসেবক। বেশকটি মাস পেরুলেও, বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করা এসব তরুণের মাঝে আজো পর্যন্ত আসেনি কোন ক্লান্তি। যারা সবাই জীবনের ঝুঁকি নিয়েতাে কাজ করছেনই। শুধু তাই নয়, এই মহামারিতে মানুষের পাশে দাঁড়াতে দীর্ঘদিনে ধরে আলাদা রয়েছেন পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে। তাদেরই একজন রমিজ উদ্দিন কানন।

স্বেচ্ছাসেবকদের অভিমুখী করতে বিদ্যুৎ বড়ুয়ার মনোভাবঃ এই হাসপাতালে সেবা দিয়ে যাওয়া এই তরুণদের নানা ভাবে উৎসাহ যুগিয়েছেন ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া। প্রতিনিয়ত দিয়েছেন সাহস। দেশের সংকটময় মুহূর্তে একজন মানবিক মানুষ হতে হলে, কি কি করণীয় তার অনেক কিছুই এই তরুণদের বুঝিয়েছেন বিদ্যুৎ বড়ুয়া। হয়েছেন সফলও। তারই প্রতিফল বর্তমান হাসপাতালটির সেবার সুনাম। কিভাবে বা কেন এসব তরুণ হাসপাতালটিতে স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন, সেটি জনসাধারণকে জানাতে আয়োজন করা হয় একটি নিয়মিত লাইভ অনুষ্ঠানের।

এবার ডেভটি অফ হিউম্যানি'র গল্প: নিয়মিত সেই লাইভ অনুষ্ঠানের একদিন অতিথি হয়ে আসেন হাসপাতালটির স্বেচ্ছাসেবক রমিজ উদ্দিন কানন। জানান, হাসপাতালে যুক্ত হওয়া থেকে শুরু করে চিকিৎসা সেবায় নিজেকে উজাড় করে দেয়ার ইতিকথা। শুধু তাই নয়, ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়ার উৎসাহে কিভাবে মানবিক কাজে নিজের শ্রমকে উৎসর্গ করে চলছেন তাও তুলে ধরেন রমিজ উদ্দিন। সেদিন তার কন্ঠে উঠে আসে, একজন বিদ্যুৎ বড়ুয়াকে খুব কাছে থেকে চেনার গল্পগুলোও। একজন বিদ্যুৎ বড়ুয়া যে মানবতার জন্য কি করতে পারেন, তা তুলে ধরেন এই ভলান্টিয়ার। সেই ধারনা থেকেই সেদিন ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়াকে 'ডেভটি অফ হিউম্যানিটি'তে ভূষিত করেন রমিজ উদ্দিন কানন।

ইচ্ছেঃ ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়ার উৎসাহে নিজেকে মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা রমিজের ইচ্ছে, সত্যিকারের একজন মানবিক মানুষ হওয়া। পাশে থাকা অসহায় মানুষগুলোর। যতদিন থাকবে এই মহামারি, ততদিন নিজেকে অনন্য এক মানুষ হয়ে দিয়ে যাবেন সেবা।

 

 

এবিএস/ জেএম