সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছাত্রলীগের কর্মী সুমন চন্দ্র দাস নিহত হওয়ার ঘটনার দায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘাড়ে চাপিয়েছে ছাত্রলীগ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রলীগের ওপর দোষ চাপানোর পাঁয়তারা করছে বলেও অভিযোগ তাদের।
শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট নগর ও জেলা ছাত্রলীগ যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেছে।
এ ঘটনায় আজ দুটো মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়াও চারজনকে এ ঘটনায় জড়িতে সন্দেহে আটক করেছে পুলিশ। এ নিয়ে আটকের সংখ্যা ৩১ জনে দাঁড়াল।
গত বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একটি পক্ষে ছিলেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী ওরফে পার্থ, সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবু সাইদ আকন্দ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন কর্মীরা। অপর পক্ষে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি অঞ্জন রায় ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য উত্তম কুমার দাসের কর্মীরা।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে। এক পক্ষের গুলিতে সুমন চন্দ্র দাস নামের ছাত্রলীগের এক কর্মী নিহত হন। সুমন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সিলেটের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে নগর ও জেলা ছাত্রলীগ যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করে। এতে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন নগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাহাত তরফদার ও জেলার সভাপতি শাহরিয়ার আলম। জেলা ও নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে রায়হান চৌধুরী ও এমরুল হাসানসহ উভয় কমিটিতে থাকা পদধারী নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের জন্য সংবাদ সম্মেলন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দোষারোপ করা হয়। বন্ধ বিশ্ববিদ্যালয় অবিলম্বে খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে নিজেদের ব্যর্থতা আড়ালের চেষ্টা করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রলীগের ওপর দোষ চাপানোরও পাঁয়তারা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা ছাত্রলীগের দায়িত্ব নয়। তাই খুনের দায় বিশ্ববিদ্যালয় এড়াতে পারবে না।’
সংঘর্ষে নিহত ছাত্রলীগের কর্মী সুমন চন্দ্র দাস হত্যার সঙ্গে জড়িত ‘প্রকৃত সন্ত্রাসী’দের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের বক্তব্যের সঙ্গে আমরাও একমত। সিলেটে ছাত্রলীগ থেকে বিভিন্ন সময় বহিষ্কৃত ও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।’
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়কে উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ অভিহিত করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আরও সাত দফা দাবি সংবাদ সম্মেলন থেকে উত্থাপন করা হয়। পাশাপাশি ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার ও পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়।
ছাত্রলীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষে হতাহতের দুদিনের মাথায় খুনের দায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর চাপানোর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের জেলার সভাপতি শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘এটা আমাদের একক কোনো বক্তব্য নয়। কেন্দ্রকে (কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ) অবহিত করে এবং ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে আমরা এ দাবি জানিয়েছি।’
জেআই





