শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরি হলে ‘নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সুজন জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৫১৯ জন প্রার্থী বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করেছেন, যা মোট প্রার্থীর ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। ঋণগ্রহীতা প্রার্থীদের মধ্যে ৭৫ জনের ঋণের পরিমাণ পাঁচ কোটি টাকার বেশি।

দলভিত্তিক হিসাবে ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর সংখ্যায় বিএনপি শীর্ষে রয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তুলনায় বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে ঋণ নেওয়ার হার বেশি।

সংবাদ সম্মেলনে সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার বলেন, মোট প্রার্থীর একটি বড়ো অংশ আয়কর সংক্রমিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করেননি। আয়কর রিটার্নের কপি জমা না দেওয়ায় প্রায় অর্ধেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অসম্পূর্ণ রয়েছে।

আয়কর রিটার্ন জমা না দেওয়ায় অনিয়ম, শীর্ষ আয়ের তালিকায় বিএনপি প্রার্থী

সুজনের তথ্য অনুযায়ী, আয়কর প্রদানকারী প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৩১৯ জন। তবে ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রার্থী আয়কর রিটার্নের কপি জমা দেননি। শুধু টিআইএন সনদ জমা দিয়েছেন ১৩২ জন প্রার্থী।

দিলীপ কুমার সরকার বলেন, বছরে এক কোটি টাকার বেশি আয় করেন— এমন প্রার্থীর সংখ্যা ৯৫ জন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ৫১ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫ জন এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী ৫ জন।

সুজনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট প্রার্থীর ৪১ শতাংশের বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ টাকার নিচে। সংখ্যায় এই প্রার্থী ৮৩২ জন। বিপরীতে, এক কোটি টাকার বেশি বার্ষিক আয় রয়েছে এমন প্রার্থী তুলনামূলকভাবে কম।

দলভিত্তিক হিসাবে আয়কর প্রদানকারী প্রার্থীর সংখ্যায়ও বিএনপি শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি এবং তৃতীয় অবস্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

আয়কর প্রদানের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আয়কর প্রদানকারী ১ হাজার ৩১৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪৭৯ জন পাঁচ হাজার টাকা বা এর কম আয়কর দিয়েছেন। এক লাখ টাকার বেশি আয়কর দিয়েছেন ৩৫৮ জন প্রার্থী। ১০ লাখ টাকার বেশি কর দিয়েছেন ১১৬ জন প্রার্থী।

প্রার্থীদের আয় ও শীর্ষ আয়কারীদের তথ্য

সুজন জানায়, প্রার্থীদের আয়ের স্তরভিত্তিক চিত্রে ৭৪১ জন প্রার্থীর বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকার মধ্যে। ২৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় করেন ১৩২ জন। ৫০ লাখ থেকে এক কোটি টাকার মধ্যে আয় করেন ৭১ জন প্রার্থী। তবে ১৫৫ জন প্রার্থী হলফনামায় তাদের আয়ের তথ্য উল্লেখ করেননি।

শীর্ষ আয়কারীদের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছেন কুমিল্লা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী জাকারিয়া তাহের। তার বার্ষিক আয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন টাঙ্গাইল-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আসাদুল ইসলাম, যার আয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জাকির হোসেন পাটওয়ারী। তার বার্ষিক আয় প্রায় ১৯ কোটি টাকা।

এছাড়া ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরসহ বিএনপি ও স্বতন্ত্র দলের কয়েকজন প্রার্থীর বার্ষিক আয় চার কোটি থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকার মধ্যে।

সুজন জানায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর হার কমেছে। আগের নির্বাচনে এই হার ছিল ২২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এবারের নির্বাচনে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৯৩ শতাংশে।

এমএম