আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থীদের মধ্যে ছয়জন বলেছেন, শহরের সমস্যা চিহ্নিত হয়ে গেছে। নির্বাচিত হলে সবাই মিলে সমন্বিতভাবে এই সমস্যার সমাধান করে নাগরিক সেবা দেবেন।

আজ সোমবার প্রথম আলো আয়োজিত ‘আমি যদি মেয়র হই’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে ওই ছয় মেয়র পদপ্রার্থী এই প্রতিশ্রুতি দেন। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর কার্যালয়ে এই গোলটেবিল বৈঠক হয়।

গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেওয়া ছয় মেয়র পদপ্রার্থী হলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আনিসুল হক, তাবিথ আউয়াল, মাহী বি চৌধুরী, আবদুল্লাহ আল ক্বাফী ও জোনায়েদ সাকী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী সাঈদ খোকন।

ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠান থাকায় গোলটেবিলে উপস্থিত হতে পারেননি ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে বিএনপি-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী মির্জা আব্বাসের পক্ষে তাঁর স্ত্রী আফরোজা আব্বাস।

গোলটেবিলে তিনজন বিশেষজ্ঞ বক্তব্য দেন। তাঁরা হলেন-নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সারওয়ার জাহান ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ।

নতুন প্রার্থী এবং তাঁদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আনন্দিত ও আশান্বিত। আমি ভাবছি, এত দিন উনারা কোথায় ছিলেন। উনারা নিশ্চয়ই ঢাকাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আমি মনে করি, এঁদের মধ্যে যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনি ঢাকাকে এগিয়ে নিতে পারবেন।’

সম্ভাব্য মেয়রদের কাউন্সিলরদের সমন্বয়ে কাজ করতে পরামর্শ দেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী আনিসুল হক দাবি করেন, ইশতেহার তৈরির আগে ঢাকা নগরের ৫২টি সমস্যা নিয়ে একটি জরিপ করছেন তিনি।

ওই জরিপে ৭৬ হাজার ৭৩৫ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৬৮ শতাংশের মতে, নগরের সবচেয়ে বড় সমস্যা মশা। এ রকম বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। এখন সমাধানের পালা।

নগরের এসব সমস্যা সমাধানে অংশগ্রহণমূলক ভাবে কাজ করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন আনিসুল হক। নির্বাচিত হলে এলাকাভিত্তিক অংশগ্রহণমূলক কমিটি গঠন করার কথা বলেন তিনি। সেই সঙ্গে প্রয়োজন হলে নগর সরকার করার জন্য চেষ্টা করবেন বলেও জানান এই প্রার্থী।

একই সিটিতে বিএনপি-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘ঢাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে আছে-এটা আমরা জানি। আমরা সেবা পাচ্ছি না। দিনদিন সেবার মান নিচের দিকে যাচ্ছে।’

ঢাকা নিয়ে ১৫ বছর ধরে গবেষণার দাবি করে তাবিথ বলেন, ‘সমস্যা চিহ্নিত। এখন সমাধান করতে হবে। চিন্তায় পরিবর্তন আনতে হবে। গতানুগতিক চিন্তায় সেটা হবে না।’

অপরিকল্পিতভাবে ঢাকা শহর গড়ে ওঠার কথা উল্লেখ করে তাবিথ বলেন, নির্বাচিত হলে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন তিনি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিকল্প ধারা বাংলাদেশ-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী মাহী বি চৌধুরী বলেন, ‘ঢাকার সমস্যা চিহ্নিত হওয়ার বিষয়ে সবাই ঐকমত্যে পৌঁছেছি। এখন কী করব, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কীভাবে করব।’

মাহী বি চৌধুরী বলেন, ‘আমরা নিরাপদ ঢাকা চাই, চলমান ঢাকা চাই, আলোকিত ঢাকা চাই।’

নির্বাচিত হলে সমস্যা সমাধানে নবীন-প্রবীণ মিলে ‘স্বচ্ছতা কমিটি’ গঠন করার ঘোষণা দেন মাহী বি চৌধুরী। দায়িত্ব পেলে ঢাকাকে প্রজন্মের শহরে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

নির্বাচিত হলে সবার জন্য বাসযোগ্য মানবিক ঢাকা গড়ে তোলার কথা বলেন একই সিটিতে সিপিবি-বাসদ-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী আবদুল্লাহ আল ক্বাফী। ৭১-দফা নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরেন তিনি বলেন, ‘আমরা তারুণ্যের পুনর্জাগরণ চাই। এ জন্য ৭১-দফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’

মেয়র নির্বাচিত হলে ন্যায়পাল নিয়োগ ও দুর্নীতিমুক্ত নগর প্রশাসন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন এই প্রার্থী।

নগরের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে একই সিটিতে মেয়র পদপ্রার্থী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকী (জোনায়েদ সাকী) বলেন, ‘নগর সরকার’ ছাড়া সমস্যার প্রকৃত সমাধান সম্ভব না।

জোনায়েদ সাকী বলেন, নগরবাসী প্রতিদিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। নির্বাচিত হলে নাগরিকদের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

এই প্রার্থীর ভাষ্য, মানুষ পরিবর্তন চায়, এই নির্বাচনের মাধ্যমেই সেই পরিবর্তন হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী সাঈদ খোকন বলেন, মেয়র নির্বাচিত হলে প্রথমেই বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষদের নিয়ে একটি সংলাপ করবেন তিনি। নাম হবে ‘ঢাকা ডায়ালগ’। এর ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন তিনি।

দলমত-নির্বিশেষে নগরভবনকে নগরবাসীর সেবাকেন্দ্রে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাঈদ খোকন বলেন, তাঁর বাবা ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ‘নগর সরকার’ এর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। নির্বাচিত হলে তিনিও ‘নগর সরকার’ করার উদ্যোগ নেবেন।

গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। শুরুতেই সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

মেয়র পদপ্রার্থীদের উদ্দেশে সূচনা বক্তব্যে মতিউর রহমান বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর মেয়রদের ভালো কাজে সমর্থন দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভুল কাজের সমালোচনা করা হবে। সূত্র: প্রথম আলো

এসএইচ