আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ও বৃহত্তর সূত্রাপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে মনোনয়ন নিয়ে দুর্বৃত্তরা সাবেক কমিশনার সাঈদকে গুলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সাঈদের পরিবার।
সাঈদের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, দুটি পদের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী একাট্টা হয়ে তাকে গুলি করেছে। তা ছাড়া ওই এলাকার বিএনপির সেক্রেটারিকেও সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। বুধবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ সাঈদের স্বজনরা এ অভিযোগ করেন।
গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০ টা থেকে ১১টার মধ্যে সূত্রাপুর কাগজিটোলা লেনের ২২ নম্বর নিজ বাসার সামনে কমিশনার ও আওয়ামী লীগ নেতা হাজি মো. সাঈদকে কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়।
এর আগে তিনি সন্ধ্যা থেকে রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত কেএল জুবিলি স্কুলে একটি মিটিংয়ে ছিলেন। সেখান থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলে করে নিজ বাসায় যাচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ পেছন থেকে আরেকটি মোটরসাইকেলে করে তিন যুবক এসে এলোপাথাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়। যুবকদের সকলের মাথায় হেলমেট পরা ছিল। আর মোটরসাইকেলের পেছনে অনটেস্ট লেখা ছিল।
ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী জাহিদ জানান, গুলির সময় পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। ঘটনার পরপরই তিনি ওই মোটরসাইকেলটি ধরার জন্য দৌড়ে যান। কিন্তু গুলি খেয়ে সাঈদ তার গায়ের ওপর পড়ায় সেটা আর হয়ে ওঠেনি। তবুও আশেপাশের লোকজন মোটরসাইকেলের পিছে ধাওয়া করলে দুর্বৃত্তরা ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায়।
জাহিদের দাবি তিনি দুর্বৃত্তদের চিনতে পেরেছেন। সাঈদ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুই বলতে রাজি নন তিনি। তবে দুর্বৃত্তদের নাম না বললেও সম্ভাব্য কয়েকজনের নাম তিনি জানিয়েছেন। তারা হচ্ছেন বিএনপির ওই এলাকার ওয়ার্ড সেক্রেটারি মজিবুর রহমান, প্রয়াত দীপু এমপির সাবেক পিএ সালেইজ্জামান সেলিম ও কমিশনার পদপ্রার্থী ছোটন। এদের বিষয়ে তিনি সরাসরি কারো নাম উল্লেখ না করে ইঙ্গিতপূর্ণ ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন।
তিনি জানান, বিএনপি নেতা মজিবুর ওই এলাকার সবচেয়ে খারাপ লোক। সারা বছর তিনি চাঁদাবাজি চালান। সাঈদ কমিশনার মাঝে মাঝেই তার এসব কাজে ক্ষিপ্ত হয়ে থানায় অভিযোগ করতেন। তা ছাড়া তিনিও ওই ওয়ার্ডের কমিশনার প্রার্থী হিসেবে কাজ করছেন। তিনিও এ ঘটনায় একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে পারেন বলে তিনি মনে করেন।
সেলিমের ব্যাপারে তিনি জানান, অভিনেতা এটিএম সামছুজ্জামানের ছোট ভাই সালেউজ্জামান সেলিম প্রয়াত দীপু এমপির পারসোনাল সেক্রেটারি ছিলেন। তখন থেকেই তিনি বৃহত্তর সূত্রাপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি পদটি চেয়ে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে মহানগর কমিটি আহবায়ক দিয়ে চলছে। আর কমিটির আহবায়ক সাঈদ নিজেই। ঢাকা মহানগর কমিটির কেন্দ্র চাইছে সাঈদ নিজেই আহ্বায়ক থেকে সভাপতি হবে। এর আগে সাঈদ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
ছোটনের ব্যাপারে জাহিদ জানান, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার পদে মনোনয়ন চাচ্ছেন ছোটন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের কমিটি পেছালে কমিশনার পদে নির্বাচন করতে চাইছেন সাঈদ। এসব কোন্দলের কারণে ছোটন গুলি করে থাকতে পারেন। আবার ছোটন ও সেলিম একাট্টা হয়ে এ কাজ করে থাকতে পারেন বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে গুলিবিদ্ধের পর সাঈদকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সে সময় কে বা কারা তাকে গুলি করেছে তাদের নাম সাঈদের বড় ছেলে অমিতকে জানিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জাহিদ।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অমিত বলেন, ‘বাবা সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে কিছুই বলা যাবে না। বাবা সুস্থ হলে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।’
একই কথা বলেছেন সাহিদের ছোট ছেলে আসিফও। তিনি বলেন, ‘আপনারা দোয়া করেন, বাবা সুস্থ হোক। সব বের হয়ে আসবে। আসল চেহারা উম্মোচন হবে।’
গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে সাঈদকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জরুরী ভিত্তিতে অপারেশন করেন। তার বাম হাত থেকে একটি ও পেটের ভেতর থেকে দুইটি গুলি বের করা হয়।
তবে পেটের গুলি বের করার সময় খাদ্যনালীর একটি নাড়ী ২৫ সে.মি কেটে ফেলতে হয় বলে ডাক্তার অধ্যাপক গোলাম রহমান জানিয়েছেন। ‘এখন তিনি আশঙ্কামুক্ত, ইনফেকশন না হলে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। আর ইনফেকশন হলে তাকে বাঁচানোটা কঠিন হবে’ বলে দাবি করেন ডাক্তার গোলাম রহমান।
ঘটনার পরপর ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ ও ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিম সাঈদকে দেখতে ঢামেকে আসেন। এ সময় তারাও কমিশনার পদ নিয়ে কোন্দলের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে মঙ্গলবার রাতে গুলির ঘটনার পরপরই বিএনপি নেতা মজিবুর রহমানকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গ্রেফতার করেছেন বলে জানা গেছে। তবে পুলিশ বলছে তাকে অন্য মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
সাঈদ কমিশনারের ছোট ভাই হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভাইয়ের বাঁচা-মরা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। উনি ভালো হয়ে উঠলে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার অবস্থার অবনতি হলে সিএমএইচ ও বিদেশেও নেওয়া হতে পারে।’
এছাড়া সাঈদ হাসপাতালের আইসিইউতে থাকা অবস্থায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও সাঈদ খোকন এসে দেখে গেছেন।
ঢাকা, ২০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





