রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামেপ্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায়দশম শ্রেণির ছাত্রী দীপা রুবাইয়া রিতুকে (১৬) এসিডে ঝলসে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।
বুধবার (০৪ মে) দিবাগত রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
রিতু স্থানীয় একটি মাদ্রার দশম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবার নাম মো. দুলু সরকার।
এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে একদল সন্ত্রাসী ওই ছাত্রীকে এসিড নিক্ষেপ করে। এতে তার মুখের এক পাশ ও কান পুড়ে যায়।
রিতুর দাদী বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় নিজ ঘরের জানালার পাশে টেবিলে বসে পড়ালেখা করছিলো। হঠাৎ তার শরীরে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ থেকে বেরিয়ে আসা পানির মতো কিছু একটা পড়লে জ্বালা করতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করলে মা-বাবাসহ অন্যরা এগিয়ে আসেন এবং পানি ঢালতে থাকেন। পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করানো হয়।
তিনি বলেন, রিতুর সহপাঠী আশরাফুল ইসলাম বুধবার বিকেলে রিতুর মোবাইলে একটি খারাপ ভাষায় ম্যাসেজ পাঠায়। এরপর সন্ধ্যায় তার শরীরে এসিড ছুড়া হয়। রিতুকে ভর্তির সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেলঅফিসারকে এসিডের পরিবর্তে এসোল্ড লিখতে বলে সন্ত্রাসীরা।
এলাকাবাসীর ধারণা সহপাঠী আশরাফুলের প্রেমের প্রস্তাব মেনে না নেওয়ায় সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েই দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটাতে পারে বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
রিতুর ভাই রাজিবুল ইসলাম জানান, আমার বোন রাতে ঘরের জানালার পাশে পড়ালেখাকরছিলো। সে সময় দুর্বৃত্তরা তাকে এসিড নিক্ষেপ করে। যারা আমার বোনকে এসিড নিক্ষেপ করেছে তাদেরকে গ্রেফতার করা হোক।
এ বিষয়ে রিতুর খালাতো ভাই শরিফুল ইসলাম জানান,আমরা গবিব ঘরের সন্তান,আমাদের বেঁচে থাকার কি কোনো অধিকার নেই।
মিঠাপুকুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো.হুমায়ন কবির জানান, দীপা রুবাইয়া রিতুকে রাতে একদল সন্ত্রাসী এসিড মেরে পালিয়ে যায়। আমি রাতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম রিতু ভালো আছে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ রিতুকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেছে।
এ ঘটনায় মিঠাপুকুর থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্ততি চলছে বলেও জানান ওসি।
এমই





