নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, ‘ডুবে যাওয়া জাহাজের যে তেল এখন নদীতে ভাসছে, সেই তেল ৩০ টাকা লিটার দরে কিনে নেবে পদ্মা অয়েল কোম্পানি। স্থানীয়দের ব্যাপকভাবে তেল তোলার জন্য আহবান করছি।’

মাদারীপুর সার্কিট হাউজে শুক্রবার বিকেলে সাইফ পাওয়ার লিমিটেডের সৌজন্যে জেলার ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নৌমন্ত্রী বলেন, ‘সুন্দরবনের ভাসমান তেল ধ্বংস করতে কান্ডারী-১০ পাঠান হয়েছে। এর মাধ্যমে রাসায়নিক পদার্থ ভাসমান তেলের ওপর ছিটানো হবে। এটি দিলে তেল একবারে পানির নিচে পড়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর এখনও যাচাই-বাছাই করছে। তারা দেখবে তেলে ক্ষতিকর কিছু আছে কিনা। যদি না থাকে তাহলে এ রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হবে। এরপর আর তেল পানির ওপরে ভাসমান অবস্থায় থাকবে না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘রবিবার বিষয়টি নিয়ে দেশের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হবে। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক জি এস এম জাফরউল্লাহ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পাভেলুর রহমান শফিক খান, মাদারীপুর প্রেসক্লাবের আহবায়ক বজলুর রহমান মন্টু খানসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা।

সুন্দরবনের শ্যালা নদীর চাঁদপাই রেঞ্জে মঙ্গলবার ভোরে ‘ওটি সাউদার্ন স্টার-৭’ নামে একটি তেলবাহী ট্যাংকার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ডুবে যায়। এতে ওই ট্যাংকারের ছয়টি হাউজে রাখা তিন লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৪ লিটার ফার্নেস অয়েল নদীতে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ তেল ছড়িয়ে পড়ায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করেন বিশেষজ্ঞরা।

জেআই