কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় কয়লাবাহী ট্রাক উল্টে রাস্তার পাশে ঘরের ওপর পড়ে ১৩ ইটভাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

শুক্রবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ১৩ জনের মধ্যে ১০ জন সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের, যাদের একই বাড়ির সাতজন। বাকি তিনজন মুসলিম।

নিহতরা হলেন— নীলফামারির জলঢাকা উপজেলার নিজপাড়া গ্রামের সুরেশচন্দ্র রায়ের ছেলে রঞ্জিত চন্দ্র রায় (৩০), একই উপজেলার পাঠানপাড়া গ্রামের নূর আলমের ছেলে মো. মোরসালিন (১৮), এই গ্রামের ফজলুল করিমের ছেলে মো. মাসুম (১৮), উপজেলার নিজপাড়া গ্রামের মানিক চন্দ্র রায়ের ছেলে তরুণ চন্দ্র রায় (২৫), একই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. সেলিম (২৮), রামপ্রসাদের ছেলে বিল্লব (১৯), একই উপজেলার শিমুল বাড়ি গ্রামের মনোরঞ্জন রায় (১৯), নিজ পাড়া গ্রামের কিশোর চন্দ্র রায়ের ছেলে শংকর চন্দ্র রায় (২২), অমল চন্দ্র রায়ের ছেলে দিপু চন্দ্র রায় (১৯), কামাক্ষা রায়ের ছেলে অমিত চন্দ্র রায় (২০), ওই উপজেলার শিমুল বাড়ি গ্রামের দিনেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে মিনাল চন্দ্র রায় (২১), উপজেলার রাজবাড়ি গ্রামের খোকা চন্দ্র রায়ের ছেলে বিকাশ চন্দ্র রায় (২৮) ও একই গ্রামের ধলু রায়ের ছেলে কনক চন্দ্র রায় (৩৪)।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মো. মাহফুজ জানান, ভোর সাড়ে ৫টার ব্রিক ফিল্ডের জন্য আনা একটি ট্রাক থেকে কয়লা আনলোড করার সময় হঠাৎ তা উল্টে গিয়ে ব্রিক ফিল্ডের লেবার শেডের ঘুমন্ত শ্রমিকদের ওপর পড়ে।

এতে সেখানে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ১২ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এসময় গরুতর আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়। চালক ও হেলপার পালাতক রয়েছে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরিদর্শদ শেষে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক প্রত্যেক নিহত শ্রমিকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এছাড়া ব্রিক ফিল্ডের মালিক ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দিতে চেয়েছেন। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দুর্ঘটনা কী কারণে ঘটেছে তা ক্ষতিয়ে দেখা হবে।

জেড