দৈনিক প্রথম আলোর যশোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে এবার আদালতে মামলা করেছেন স্ত্রী জাহানারা খাতুন।
তিনি রোববার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু ইব্রাহিমের আদালতে এ মামলা করেন। বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারির নির্দেশ দেন।
এর আগে একই অভিযোগে জাহানারা খাতুন ১৩ জুন কোতয়ালী থানায় স্বামী মনিরুলের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন।
আদালতে দাখিল করা পিটিশনে অভিযোগ করা হয়, আসামি মনিরুল ইসলাম ২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি যশোর শহরের পূর্ববারান্দী মাঠপাড়ার নেছার আলীর মেয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা জাহানারা খাতুনকে বিয়ে করেন।
বিয়ের পর মনিরুল ইসলাম তার গ্রামের বাড়ি সংস্কারের জন্য দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। জাহানারার বাবা যৌতুক দিতে রাজি না হলেও পরবর্তী সময়ে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ঘর সংস্কারের টাকা দেন।
এর কয়েক মাস পর মনিরুল ফের যৌতুক দাবি করেন। এবার তিনি যশোর শহরে দুই কাঠা জমি কিনে দেওয়ার আবদার করেন। জাহানারার মা মেয়ের নামে ওই জমি কিনে দিতে মনস্থির করেন। কিন্তু মনিরুল জমি তার নামে রেজিস্ট্রি করার কথা বলেন। এতে রাজি না হওয়ায় তিনি স্ত্রী জাহানারার ওপর নির্যাতন শুরু করেন।
এরপরও জমি তার নামে কিনে না দেওয়ায় মনিরুল ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে ৩০ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টার দিকে জাহানারাকে মারপিট করে বাসা থেকে বের করে দেন। একই সঙ্গে হুমকি দেন, জমি তার নামে লিখে দিলেই কেবল জাহানারা স্বামীর সংসারে ফিরতে পারবেন।
পিটিশনে আসামি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানিয়ে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন জাহানারা খাতুন।
বাদীর আইনজীবী শাহরিয়ার বাবু জানান, বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। এ ছাড়া মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২৩ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন বিচারক।
প্রসঙ্গত, একই অভিযোগে ১৩ জুন যশোর কোতোয়ালী থানায় অভিযোগ দেন জাহানারা খাতুন।
ওই সময় মনিরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘শারীরিক সমস্যার কারণে জাহানারার সন্তান হবে না। এ সব নিয়ে সাংসারিক অশান্তি চলছিল। আপস-মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ২০ মে আমি কাজীর মাধ্যমে তার কাছে তালাকনামা পাঠিয়ে দিই।’
থানায় মামলা হওয়ার পর মনিরুল ইসলাম আত্মগোপনে চলে যান। তিনি যশোরের কেশবপুর উপজেলার আলতাপোল গ্রামের কিনু মোড়েলের ছেলে।
এমকে





