চার হাত-পায়ের মধ্যে আছে শুধু একটি পা। আর সেটিকেই সম্বল করে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে যশোরের ঝিকরগাছার বাঁকড়া জে.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী তামান্না নূরা।
এ স্কুল থেকেই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে এক পা দিয়ে লিখে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে অবাক করেছে সে। জেএসসি, পিইসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছিল সে। এই এক পা দিয়েই সুন্দর ছবিও আঁকতে পারে সে।
ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের রওশন আলী ও খাদিজা পারভীন শিল্পী দম্পতির মেয়ে তামান্নার চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছা।
ভাল ফলাফলে বাবা-মা, শিক্ষক, সহপাঠী, সাংবাদিক, বিশেষ করে আর্থিক সহায়তা দেয়ায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আনোয়ার হোসেনকে কৃতজ্ঞভরে স্মরণ করে নূরা।
নিজের ভবিষ্যত নিয়ে ক্ষুদে এই মেধাবীর ভাষ্য, ‘এসএসসিতে ভাল করেছি। ভাল কলেজে পড়তে চাই। তবে শঙ্কা একটু আছে, পারব কিনা? বাবার আর্থিক অবস্থা ভাল না। ভাল কলেজে পড়া, শহরে থাকা খরচের। সে সক্ষমতা আমাদের নেই।’
নিজের ইচ্ছের কথাও পষ্ট করে নূরা, ‘এইচএসসি পাস করার পর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাই। এরপর বিসিএস দিয়ে বড় সরকারি কর্মকর্তা হব। মানুষের পাশে দাঁড়াব। সবাই দোয়া করবেন।’
মেয়ের সাফল্যে ভীষণ খুশি বাবা-মা। বাবা রওশন আলী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘মেয়ের ভাল ফলাফলে খুবই খুশি, ভাষায় বলে বোঝানোর নয়। এবার মেয়েকে ভাল কলেজে পড়ানোর চ্যালেঞ্জ। শহরে মেয়েকে ছাত্রাবাসে রেখে পড়ানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’
স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক রওশন আলী। নন-এমপিও, এজন্য বেতন পান না। টিউশনি করে সংসার চালান।
মেয়ের উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মেয়ে বিসিএস ক্যাডার হতে চায়। ওর স্বপ্নপূরণে আমি চেষ্টা চালিয়ে যাব। সবাই দোয়া করবেন।’
নূরা প্রথম শ্রেণি থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা পর্যন্ত মেধা তালিকায় শীর্ষে ছিল। পাশাপাশি এডাস বৃত্তিও পেয়েছিল। ২০১৩ সালে প্রাথমিক সমাপনী (পিইসি) এবং ২০১৬ সালে জেএসসি পরীক্ষায় সে জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
এএস





